বিশ্বকাপে টিকে থাকার লড়াইয়ে বড় জয়ের বিকল্প ছিল না সেনেগালের সামনে। সেই কঠিন সমীকরণই দারুণভাবে মিলিয়েছে আফ্রিকার দলটি। ইরাককে ৫,০ গোলে বিধ্বস্ত করে নকআউট পর্বে ওঠার আশা বাঁচিয়ে রেখেছে সেনেগাল। তবে শেষ ৩২ নিশ্চিত করতে এখন তাদের অপেক্ষা করতে হবে অন্য গ্রুপগুলোর ফলাফলের দিকে।
শুক্রবার (২৬ জুন) কানাডার টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘আই’-এর শেষ ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য দেখায় সেনেগাল। ম্যাচের মাত্র চতুর্থ মিনিটেই এগিয়ে যায় তারা। কর্নার থেকে আসা বলে হাবিব দিয়ারার হেড দিক পরিবর্তন করে জালে জড়িয়ে গেলে কাঙ্ক্ষিত সূচনা পায় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। বিশ্বকাপে এটি সেনেগালের দ্রুততম গোল।
গোল হজমের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই আরও বড় বিপদে পড়ে ইরাক। ১৩তম মিনিটে সাদিও মানেকে নিশ্চিত গোলের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করায় প্রথমে হলুদ কার্ড দেখলেও, ভিএআরের পর সিদ্ধান্ত বদলে রেবিন সুলাকাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। এরপর ১০ জনের দল হয়ে পড়ে ইরাক।
সংখ্যাগত সুবিধা পেলেও প্রথমার্ধে আর গোলের দেখা পায়নি সেনেগাল। ইরাকের গোলরক্ষক আহমেদ বাসিল কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন। তবে বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র।
৫৬তম মিনিটে লামিন কামারার দারুণ পাস থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ইসমাইলা সার। তিন মিনিট পর দূরপাল্লার দুর্দান্ত শটে তৃতীয় গোল যোগ করেন বদলি নেমে আলো ছড়ানো পাপে গুইয়ে। ৭১তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান ৪,০ করেন তিনি। এরপর ৮২তম মিনিটে ইলিমান এনদিয়ায়ের দূরপাল্লার শটে পূর্ণতা পায় সেনেগালের গোল উৎসব।
এই জয়ে তিন পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে তৃতীয় স্থানে শেষ করেছে সেনেগাল। পাশাপাশি সেরা তৃতীয় দলগুলোর তালিকায় নিজেদের অবস্থানও শক্ত করেছে তারা। তবে নকআউট পর্বে জায়গা হবে কি না, সেটি নির্ভর করছে অন্য গ্রুপগুলোর ফলাফলের ওপর।
অন্যদিকে ৪০ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে হতাশাজনক পারফরম্যান্সেই বিদায় নিল ইরাক। তিন ম্যাচেই হেরে কোনো পয়েন্ট ছাড়াই শেষ হয়েছে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান। পুরো টুর্নামেন্টে তারা ১২ গোল হজম করেছে, বিপরীতে করতে পেরেছে মাত্র একটি গোল।