উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢল ও বৃষ্টিপাতের কারণে গাইবান্ধার সবগুলো নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এরই মধ্যে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অবনতির আশংকা রয়েছে। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যে জানাযায়, উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার কয়েকটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে তিস্তা নদীর পানি বিপদ সীমার খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। এ কারণে নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সোমবার বেলা ১২টায় গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, তিস্তা নদীর কাউনিয়া স্টেশন পয়েন্টে পানি বিপদ সীমার ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ নদীর পানি ৭৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।
ঘাঘট নদীর নিউব্রিজ স্টেশন পয়েন্টে পানি বিপদ সীমার ১৬৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ নদীর পানি ১৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। যমুনা-ব্রহ্মপুত্র নদীর ফুলছড়ি স্টেশন পয়েন্টে পানি বিপদ সীমার ৯৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ১২ সেন্টিমিটার । করতোয়া নদীর চকরহিমাপুর স্টেশন পয়েন্টে পানি বিপদ সীমার ৪১৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ নদীর পানি ২ সেন্টিমিটার কমেছে। এ ছাড়া, গত ২৪ ঘণ্টায় গাইবান্ধা জেলায় ৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায় পানি বাড়তে শুরু করায় জেলার সদর, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলের অনেক পরিবার তাদের গবাদিপশু, খাদ্যশস্য ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এখনও কোথাও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি না হলেও পানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।