রংপুরের ঐতিহ্যবাহী বড় রংপুর কারামতিয়া কামিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার কেন্দ্র বহালের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক, গভর্নিং বডির সদস্য এবং স্থানীয় শিক্ষাবিদরা। পরে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে জেলা প্রশাসক আসন্ন আলিম পরীক্ষা উপলক্ষে বড় রংপুর কারামতিয়া কামিল মাদ্রাসার কেন্দ্র পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত দেন। বুধবার (১ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিনের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন আবেদনকারীরা। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বড় রংপুর কারামতিয়া কামিল মাদ্রাসা দীর্ঘদিন ধরে দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত এই প্রতিষ্ঠানটি জাতীয় পর্যায়ে একাধিকবার শ্রেষ্ঠ মাদ্রাসার স্বীকৃতি লাভ করেছে এবং কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় ধারাবাহিকভাবে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জন করে আসছে।
এতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি আলিম পরীক্ষা-২০২৬ এর কেন্দ্র রংপুর-০২ (কেন্দ্র কোড-৩৬৭) বড় রংপুর কারামতিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে মুলাটোল মদিনাতুল উলুম কামিল মাদ্রাসায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত তথ্য গোপন ও বিভ্রান্তিকর অভিযোগের ভিত্তিতে হয়েছে বলে দাবি করেন আবেদনকারীরা। তারা অভিযোগ করেন, কেন্দ্র স্থানান্তর কার্যকর হলে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হবে। স্মারকলিপি গ্রহণের পর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন সংশ্লিষ্ট উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনেন এবং সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করেন। আলোচনা শেষে তিনি বড় রংপুর কারামতিয়া কামিল মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষার কেন্দ্র পুনর্বহালের সিদ্ধান্তের কথা জানান।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, "শিক্ষার্থীদের স্বার্থই আমাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য শুনে এবং বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে পরীক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে। শিক্ষা কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত বিঘ্ন সৃষ্টি হোক, সেটি আমরা চাই না।" সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করে বড় রংপুর কারামতিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব মাওলানা মো. আলতাফ হোসাইন জেলা প্রশাসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, "মাননীয় জেলা প্রশাসক শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যৌক্তিক দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর এই মানবিক ও দূরদর্শী ভূমিকার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। এই সিদ্ধান্তে হাজারো শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের উদ্বেগ দূর হয়েছে।" এ সময় উপস্থিত ছিলেন গভর্নিং বডির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. রবিউল ইসলাম, শিক্ষক প্রতিনিধি ড. মুহাম্মদ আজিজুল ইসলাম, গভর্নিং বডির দাতা ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মো. শামসুজ্জোহা সুজা, ময়নাকুটি আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ রুহুল কুদ্দুস, সাবেক শিক্ষক প্রতিনিধি ও প্রতিষ্ঠাতার নাতি মো. শামসুজ্জোহা রাজু, মাওলানা হাবিবুল্লাহ ফারুক, মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান এবং মো. শাইখুল ইসলাম শাইখসহ মাদ্রাসার শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শুভানুধ্যায়ীরা।