বাগেরহাটের মোল্লাহাটে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বিষ প্রয়োগ করে এক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মাছচাষির তিনটি মাছের ঘেরের প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে উপজেলার বুড়ি গাংনী এলাকার দুই পরিবারের বিরোধকে কেন্দ্র করে বুড়ি গাংনী সংলগ্ন রূপসা উপজেলার শিয়ালী মৌজায় অবস্থিত তিনটি ঘেরে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।
ক্ষতিগ্রস্ত মাছচাষি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা চান মিয়া ফকির জানান, জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী দুলাল ফকির ও লিটন ফকিরের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলছে। এর আগে প্রতিপক্ষ তার একটি ঘেরের পাড় কেটে দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। ওই ঘটনায় শিয়ালী পুলিশ ক্যাম্পে অভিযোগ দায়ের করা হয়। এছাড়া জবরদখল চেষ্টা ও হুমকির প্রতিকার পেতে আদালতে ১৪৪ ধারায় মামলাও করেন তিনি।
চান মিয়া ফকিরের দাবি, মামলার পর থেকেই প্রতিপক্ষ তাকে ঘেরের মাছ মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছিল। শুক্রবার দুপুরে তিনি প্রতিপক্ষের ঘেরে দুলাল ফকিরকে একটি বস্তা ও কাঁচি নিয়ে দেখতে পান। তখন বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে জুমার নামাজ আদায় করতে যান। নামাজ শেষে ফিরে এসে দেখেন ঘেরের পানিতে মাছ অস্বাভাবিকভাবে লাফালাফি করছে। পরে তিনি ধারণা করেন, ঘেরে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় মাছ তুলে দেখেন তিনটি ঘেরের বিপুল পরিমাণ মাছ মারা গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় তার প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
এ সময় তার সন্তানসহ স্বজনরাও একই অভিযোগ তুলে ঘটনার বিচার দাবি করেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দুলাল ফকির বলেন, জমি নিয়ে তাদের বিরোধ রয়েছে, তবে বিষ প্রয়োগের ঘটনায় তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এছাড়া দুলাল ফকিরের ভাই লিটন ফকিরও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধ থাকলেও বিষ দিয়ে মাছ নিধনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার জানিয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।