অধিগ্রহণে প্রবাসীর স্বপ্নভঙ্গ

ক্ষতিপূরণের কম টাকায় আস্থার সংকটের প্রবাসি বিনিয়োগ

এফএনএস (টিপু সুলতান; কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ) : | প্রকাশ: ১০ জুলাই, ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
ক্ষতিপূরণের কম টাকায় আস্থার সংকটের প্রবাসি বিনিয়োগ

“দেশের জন্য কিছু করবো বলে সারাজীবনের সঞ্চয় দিয়ে জমিটা কিনেছিলাম। আজ সেই জমির ওপর গড়া স্বপ্নটাই ভেঙে যাচ্ছে চোখের সামনে।” কাঁপা গলায় কথাগুলো বলছিলেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ড. মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন।

ঝিনাইদহ শহরের ব্যাপারীপাড়ার সন্তান ফরহাদ হোসেন। দীর্ঘদিন অস্ট্রেলিয়ায় সৎ ও কঠোর পরিশ্রম করে উপার্জিত অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। সেই টাকায় ২০১৯ সালে লাউদিয়া মৌজায় একখণ্ড জমিসহ একটি প্রতিষ্ঠিত মার্কেট কেনেন। নাম দেন ‘আল-আজিম মার্কেট’। স্বপ্ন ছিল মার্কেটটিকে আধুনিক বাণিজ্যিক কেন্দ্র বানিয়ে এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবেন।

সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্ন। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের কবলে পড়েছে তার সাধের মার্কেটটি। অধিগ্রহণ নোটিশ পাওয়ার পরই মার্কেটের ১১টি সচল দোকান একে একে বন্ধ হয়ে গেছে। সেখানে চিকিৎসকের চেম্বার ছিল, গাড়ি মেরামতের গ্যারেজ ছিল, ছিল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সংসার চালানোর একমাত্র অবলম্বন। অনিশ্চয়তার মুখে দোকানিরা সবাই চলে গেছেন। তালা ঝুলছে প্রতিটি শাটারে। ড. ফরহাদ হোসেনের দাবি, “মার্কেটটি সম্প্রসারণের নকশা তৈরি ছিল। অনুমোদনের জন্য আবেদন করবো, ঠিক তখনই অধিগ্রহণের চিঠি এলো। আমার চালু ব্যবসা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, সব শেষ। সবচেয়ে বড় কষ্ট, এই ক্ষতির কোনো ন্যায্য মূল্যায়ন হচ্ছে না।”

তিনি জানান, প্রবাস জীবনের প্রতিটি ডলার তিনি জমিয়েছেন দেশে কিছু করার আশায়। “আমরা প্রবাসীরা দেশের স্বার্থে ত্যাগ স্বীকার করতে রাজি। কিন্তু সেই ত্যাগের বিনিময়ে যদি অবিচার পাই, তাহলে নতুন করে কেউ দেশে বিনিয়োগের সাহস পাবে না। আমার মতো হাজারো ফরহাদের স্বপ্ন মরে যাবে।” এই মার্কেটটি শুধু ইট-পাথরের স্থাপনা ছিল না। ছিল ভাড়াটিয়ার ১১টি পরিবারের রুটি-রুজির জায়গা। দোকান বন্ধ হওয়ায় সেই পরিবারগুলোও এখন পথে বসার উপক্রম। ড. ফরহাদ কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন না। তার একটাই চাওয়া আইনের আলোকে ন্যায়বিচার। তিনি বলেন, “উন্নয়ন হোক, কিন্তু সেই উন্নয়ন যেন কোনো প্রবাসীকে কষ্ট দিয়ে না হয়। রাষ্ট্রের কাছে আমার আকুতি, প্রবাসীদের যেন নিজ দেশে পরবাসী মনে না হয়।” এ বিষয়ে ঝিনাইদহের সাবেক ভুমি অধিগ্রহন কর্মকর্তা আহম্মেদ সায়াদাত প্রবাসির আবেদন পেয়ে জানিয়েছিলেন, ভুমি অধিগ্রহন আইন অনুযায়ী তিনি ক্ষতিপুরণ পাবেন। এতে আইনের কোন ব্যাত্যয় ঘটেনি। তাছাড়া গণপুর্তসহ ৬টি বিভাগের সরজমিন দেওয়া রিপোর্ট মোতাবেক প্রবাসি ফরহাদের জমির মুল্য নির্ধারণ করা হয়।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে