সমুদ্রবন্দরের সতর্কতা সংকেত প্রত্যাহার

৫ বিভাগে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ১১ জুলাই, ২০২৬, ০৩:১১ পিএম
৫ বিভাগে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস
ফাইল ছবি

ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কা কেটে যাওয়ায় দেশের চার সমুদ্রবন্দরের স্থানীয় সতর্কতা সংকেত প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের পাঁচ বিভাগে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকির কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

শনিবার (১১ জুলাই) আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে সতর্কতা সংকেত নামিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে। যদিও উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সমুদ্রবন্দরের সংকেত প্রত্যাহার করা হলেও দেশের কয়েকটি নদীবন্দরে এক নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

ভারি বৃষ্টিপাত নিয়ে আলাদা সতর্কবার্তায় আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর ১২টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারি এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি অতি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।

আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন, “আগামী কয়েকদিন দেশের পাঁচটি বিভাগে ভারি বৃষ্টিপাত থাকতে পারে। ১৪ জুলাইয়ের পর থেকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কিছুটা কমে যেতে পারে।”

আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও সতর্ক করেছে, ভারি বৃষ্টির কারণে শনিবার (১১ জুলাই) ও রোববার (১২ জুলাই) কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) সকালের নিয়মিত আবহাওয়া বুলেটিনে বলা হয়, ভারতের মধ্য উত্তর প্রদেশ ও আশপাশের এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। একই সময়ে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রংপুরে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে সর্বোচ্চ ১৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়। এছাড়া চট্টগ্রামের আমবাগানে ১০৬ মিলিমিটার, যশোরে ৮৯ মিলিমিটার, বান্দরবানে ৮০ মিলিমিটার, সীতাকুণ্ডে ৭৯ মিলিমিটার, রাঙামাটিতে ৭৭ মিলিমিটার এবং ঢাকায় ৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে