চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, ঘনবসতি বাড়ছে দিন দিন। তাই এখনি সচেতন হতে হবে, অন্যকেও সচেতন করতে হবে। রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের আয়োজনে তাদের হলরুমে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস ২০২৬ পালন উপলক্ষে আলোচনা সভা, ক্রেস্ট ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দিবসে এবারের প্রতিপাদ্য ছিলো ‘তারুণ্যের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করি আজকের প্রত্যয়ে সুন্দর আগামী গড়ি’ এবং ছেলে হোক, মেয়ে হোক দু'টি সন্তানই যথেষ্ট। জেলা প্রশাসক আরও বলেন,স্বাধীনতার সময় অনুযায়ী এখনো জনসংখ্যা দ্বীগুন হয়নি এদেশে। এটা একটা পজেটিভ দিক। আর এজন্য পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা ভালো কাজ করছে। সংসার পরিচালনায় নিত্য দিনের মাথাপিছু যে খরছ। সেদিকে খেয়াল রাখতেই পরিবার পরিকল্পনায় সচেতন হওয়া জরুরী। সভায় জেলা পরিষদ প্রশাসক একেএম সলিম উল্যা সেলিম বলেন, সন্তান মানুষ করতে অনেক কষ্ট। দেখা যায়, একজন রিক্সায়ালা শ্রমিক দিনে আয় করেন ৪/৫শ’ টাকা। অতছ তার সংসারে বাচ্চা ৪/৫টি। আর এতেই একটা সময় তার সংসারে অভাব অনটন এবং একটা পর্যায়ে বেকারত্ব বাড়ে। তাই বাস্তবিক চিন্তাভাবনা করে সবাইকে নিজ উদ্যোগে পরিবার পরিকল্পনায় সচেতন হতে হবে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান বলেন, পরিবার পরিকল্পনায় সমাজের ধনাঢ্যরা এগিয়ে থাকলেও এক্ষেত্রে পিছিয়ে নিম্ন আয়ের মানুষ। এটা নিয়ে আরও জোড়ালোভাবে কাজ করতে পরিবার পরিকল্পনার মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের ভূমিকা নিতে হবে। সচেতনতাই পারে সমাজে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে।
চাঁদপুর জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোঃ মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে এবং সদর পরিবার পরিকল্পনা অফিসার রবিউল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ নুর আলম, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এ কেএম মাহাবুবুর রহমান, চাঁদপুর সদরের ইউএনও এসএমএন. জামিউল হিকমা, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী প্রমূখ। সভা শেষে স্বাস্থ্যকর্মীদের নানা ক্যাটাগরিতে সম্মাননা স্মারক ও সনদ বিতরণ করেন অতিথিরা। পরে পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের সামনে বৃক্ষরোপনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি করা হয়।