নীলফামারীর ডাঙ্গাপাড়া গ্রাম এখন পাখির গ্রাম নামে পরিচিত

এফএনএস (ওবায়দুল ইসলাম; সৈয়দপুর, নীলফামারী) : | প্রকাশ: ১৪ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৪ এএম
নীলফামারীর ডাঙ্গাপাড়া গ্রাম এখন পাখির গ্রাম নামে পরিচিত

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটি পশ্চিম ডাঙ্গাপাড়া গ্রাম। বর্তমানে ওই গ্রামটির নাম বিলীনের পথে। লোকজন এখন ডাঙ্গাপাড়া গ্রাম না বলে নতুন নামে ডাকে পাখির গ্রাম বলে। কারণ ওই গ্রামে প্রায় ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে হাজার হাজার বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বসবাস করে আসছে একটি বাঁশঝাড়ে। নিরাপদ আশ্রয়স্থল হওয়ায় পাখিরা স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। ফলে ওই গ্রাম এখন সবার কাছে পাখির গ্রাম নামে পরিচিত হয়েছে।

ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে প্রায় ৪ একর ২০ শতাংশ জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এক বাঁশঝাড়। আর ওই বাঁশঝাড়ে সাদা বক, পানকৌড়ি, রাতচরা, ঘুঘু ও শালিকসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি নিরাপদে বসবাস করছে। স্থানীয়দের দাবি, তাদের পূর্বপুরুষদের সময় থেকেই পাখিরা এখানে বাসা বেঁধে আছে।

এলাকার চারদিকে সবুজে ঘেরা বিশাল বাঁশঝাড়। বাঁশঝাড়ের প্রতি কঞ্চিতে এখন পাখিদের বিচরণ। ভোরে পাখির কিচিরমিচির ডাক আর সন্ধ্যায় ডানার শব্দে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। এখানে দীর্ঘদিন ধরে পাখির বসবাসের কারণে ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের নাম এখন হয়েছে পাখির গ্রাম নামে।

সবাই এখন ওই গ্রামকে পাখির গ্রাম বলে ডাকেন। 

বাঁশঝাড়ের মালিকদের মধ্যে মাজেদুল ইসলাম নামে একজন বলেন, আমার দাদার আমল থেকেই আমরা এই পাখিগুলোকে দেখে আসছি। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করি কেউ যেন পাখিদের ক্ষতি না করে। তবে ইদানিং কিছু অসাধু শিকারী ও পর্যাপ্ত সংরক্ষণের অভাবে পাখিদের সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। আমরা চাই সরকার এই এলাকাটিকে সরকারীভাবে অভয়াশ্রম ঘোষণা করে সীমানা প্রাচীর ও নজরদারির ব্যবস্থা করুক।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা দুলাল হোসেন বলেন, এই গ্রামে প্রায় প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থী আসেন পাখিগুলো দেখতে। আমরা গ্রামের সকলে মিলে চেষ্টা করি, যাতে এই পাখিগুলোকে কেউ বিরক্ত না করে।

পাখির এই অভয়ারণ্য দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে প্রকৃতিপ্রেমী ও দর্শনার্থীরা ভিড় জমান। তবে পর্যাপ্ত সুযোগ- সুবিধার অভাবের কথাও জানান তারা।

ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, চিলাহাটির এই পাখির অভয়াশ্রমটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এরইমধ্যে সেখানে একটি পুকুর খননসহ কিছু সংস্কার কাজ করা হয়েছে। বনবিভাগ ও প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের সঙ্গে সমন্বয় করে এই পাখির গ্রামটিকে আরও কীভাবে পর্যটনবান্ধব ও নিরাপদ করা যায়, সে বিষয়ে পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকৃতি ও পাখির এমন মেলাবন্ধন আধুনিক যুগে বিরল। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতার মাধ্যমে পাখির গ্রামটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম টিকে থাকবে।

চিলাহাটির স্থানীয় সাংবাদিক এ আই পলাশ বলেন,পাখির কারণে আজ ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের নাম বিলিনের পথে। কারণ সবাই এখন গ্রামটিকে পাখির গ্রাম বলে ডাকেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে