নাগেশ্বরীতে নদী ভাঙনে স্বপ্নভঙ্গ হাজারও পরিবারের

এফএনএস (হাফিজুর রহমান হৃদয়; নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম) :
| আপডেট: ১৫ জুলাই, ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম | প্রকাশ: ১৫ জুলাই, ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম
নাগেশ্বরীতে নদী ভাঙনে স্বপ্নভঙ্গ হাজারও পরিবারের

উজানের ঢল আর ভারী বৃষ্টিপাতে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার দুধকুমার, ব্রহ্মপুত্র, সঙ্কোষ, গঙ্গাধরসহ সবকটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও তা কমতে শুরু করেছে। পানি কমার সাথে সাথে দেখা দিয়েছে তীব্র নদী ভাঙন। ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলী জমি, সুপাড়ি বাগান, সড়ক ও নানা অবকাঠামোসহ কোটি কোটি টাকার সম্পদ। ভাঙনে নিঃস্ব হয়ে কান্না থামছে না নদীপাড়ের মানুষের। যদিও পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করছেন তারা। 

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে দুধকুমার, ব্রহ্মপুত্র ও গঙ্গাধর নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের গোয়ালটারী, কুটিরচর, রায়গঞ্জ ইউনিয়নের চর দামালগ্রাম, ফান্দেরচর, ধাউরারকুটি, হাজিরমোড়, মোল্লারভিটাসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় দুধকুমার নদীর ভাঙন তীব্র হয়ে উঠেছে। এ ছাড়াও নুনখাওয়া, নারায়ণপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে বেশকিছু পয়েন্টে। নদী ভাঙনে একের পর এক বিলীন হচ্ছে মানুষের শেষ সম্বল। ফলে ঠাঁই হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়ছে নদীপাড়ের মানুষ। রায়গঞ্জ ইউনিয়নের চর ধাউরারকুটি হাজিরমোড় এলাকায় এক সপ্তাহে অন্ততঃ অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি ভেঙ্গে গেছে দুধকুমারের আগ্রাসনে। কেউ কেউ ঘরবাড়ি সরিয়ে নিলেও শেষ রক্ষা হয়নি অনেকের। ভাঙন কবলিতদের অভিযোগ শুষ্ক মৌসুমে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নেয়ায় নিঃস্ব হচ্ছে হাজারও পরিবার। এ অবস্থায় স্বপ্নের শেষ আশ্রয় হারিয়ে কেউ কেউ অন্যের জমিতে অতি কষ্টে বসবাস করছেন পরিবার পরিজন নিয়ে। ওই এলাকার আতাউর রহমান আপেল জানান, তাদের এলাকায় দুধকুমার নদীর ভাঙনে এক রাতে বিলীন হয়েছে ৩৫টি বসতভিটা, সুপাড়ি বাগান ও ফসলী জমি। হুমকীর মুখে রয়েছে আরও অসংখ্য বাড়িঘর, নতুন স্লুইসগেট, সড়ক, মসজিদ, মাদরাসাসহ নানা অবকাঠামো। মোল্লারভিটা এলাকার মজিরন বেগম, জানান তার স্বামী নেই। নদীর কোলঘেঁসে রয়েছে সড়ক। আর এই সড়কের পাশেই এক টুকরো জমিতে রয়েছে তার মাথা গোঁজার ঠাঁই। যেভাবে নদী ভাঙছে এতে করে তার বসতভিটা কখন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায় এমন শঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটে তার। আছমা বেগম জানান, ভাঙনের কবলে পড়ে তিনি তাড়াহুড়ো করে বাড়ি সরিয়ে নিয়েছেন তিনি। বাড়ি না সরালে হয়তো তার বাড়িও নদীগর্ভে চলে যেত। বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের চর লুছনি এলাকার শাহালম মিয়া জানান, তিনি একাধিকবার দুধকুমান নদী ভাঙনের শিকার হয়েছেন। এতে করে তার জমিজমা সব হারিয়ে এখন নিঃস্ব তিনি। এছাড়াও সড়ক, মসজিদ, মাদরাসাসহ অসংখ্য বসতভিটা ভাঙনের মুখে রয়েছে। জরুরিভিত্তিতে ভাঙন না ঠেকালে অসংখ্য মানুষ বাস্তুহারা হয়ে যাবে।  

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, বিভিন্ন নদনদীর ৩৬টি পয়েন্টে নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙন কবলিত গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে