পবায় জলবায়ু ন্যায্যতা ও খাদ্য সার্বভৌমত্ব বিষয়ে স্কুল ক্যাম্পেইন

এম এম মামুন; রাজশাহী | প্রকাশ: ২২ জুলাই, ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম
পবায় জলবায়ু ন্যায্যতা ও খাদ্য সার্বভৌমত্ব বিষয়ে স্কুল ক্যাম্পেইন
রাজশাহীর পবা উপজেলার দর্শনপাড়াতে কৃষি প্রতিবেশবিদ্য, জলবায়ু ন্যায্যতা ও খাদ্য সার্বভৌমত্ব বিষয়ে স্কুল ক্যাম্পেইনে সচেতনতামূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনা শেষে শিক্ষার্থীদের মাঝে ফলজ, বনজ ও ঔষধী গাছের চারা বিতরণ করা হয়। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে দর্শনপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্টান বারসিক এর আয়োজনে স্কুল ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠানে কৃষি প্রতিবেশবিদ্য, জলবায়ু ন্যায্যতা ও খাদ্য সার্বভৌমত্ব বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতামূলক আলোচনা হয়। সচেতনতামূলক আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দর্শনপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: মনজুর রহমান, তিনি বলেন, নিজেদের ভাল রাখতে ও বিষযুক্ত খাবার উৎপাদনের জন্য রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার কমাতে হবে। এসব রাসায়নিক সার ও কীটনাশক অতিমাত্রায় ব্যবহারের কারণে পশুপাখি, মাছ, উদ্ভিদ এবং কীটপতঙ্গ দিনদিন মারা যাচ্ছে। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুন্দর ও নিরাপদ পৃথিবী গড়তে সবাইকে এখনই সচেতন হতে হবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এবং পশুপাখির খাবারের ফলমূলের গাছসহ প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন প্রজাতির একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি এই ধরণের বাস্তবধর্মী ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের চিন্তা-চেতনার বিকাশে দারুণ ভূমিকা রাখে। আজকের শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে এই দেশের নেতৃত্ব দেবে, তাই তাদের মধ্যে পরিবেশ ও কৃষির প্রতি ভালোবাসা জাগ্রত করা অপরিহার্য। তিনি এই চমৎকার উদ্যোগের জন্য বারসিক, কে ধন্যবাদ জানান। উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের প্রোগ্রাম অফিসার মো: তৌহিদুল ইসলাম বলেন, পরিবেশ-প্রতিবেশ এর মধ্যে সকল উদ্ভিদ ও প্রাণীকে টিকিয়ে রাখতে কৃষিপ্রতিবিদ্যা অপরিহার্য। রাসায়নিক সারের ব্যবহার দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগে কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ছাড়া আবাদ (ফসল) হয়েছে। এসব ছাড়াও আবাদ (ফসল) উৎপাদন হবে কিন্তু আমাদের চর্চা নাই। বরং রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহারের করে কৃষি জমির মান নষ্ট হচ্ছে। মানুষ ভাবে কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার করে আমাদের আবাদ (ফসল) ভাল হয়। কিন্তু এগুলে ব্যবহার করে আমাদের শরীল, পরিবেশ সহ সব কিছুর ক্ষতি হয়। আবার পরিবেশের উপকারী পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ মারা যাচ্ছে ফলে আমাদের জলবায়ু ও পরিবেশের ভারসাম্য ঝুঁকির মধ্যে। তাই রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব ও স্থানীয় কৃষি পদ্ধতির উপর জোর দিতে, যা মাটির স্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে। তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশি জাতের বীজ সংরক্ষণ করতে হবে। বিলনেপালপাড়া এলাকায় দেশী জাতের "কমিউনিটি বীজ ব্যাংক" আছে। সেখানে দেশীয় ১৯০ জাতের বীজ সংগ্রহে রয়েছে। কৃষকদের সহযোগিতা করার লক্ষ্যে দেশী জাতের দেশীয় বীজ সংরক্ষণের জন্য বীজ লাইব্রেরি করার কাজ করছি। আমরা এমন একটি কৃষি ব্যবস্থা চাই, যেখানে নিরাপদ খাদ্য, প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু ন্যায্যতা একসঙ্গে নিশ্চিত হবে। সেজন্য আপনাদের সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। এসময় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা নিজেদের এলাকায় পরিবেশবান্ধব কৃষি সম্প্রসারণ, জলবায়ু সচেতনতা বৃদ্ধি এবং খাদ্য সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী শিক্ষক মো: আক্কাস আলী, মোসা: নাজমা বেগম, মো: লুৎফুর রহমান, উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের সহযোগী কর্মসূচি কর্মকর্তা মোসা: সুলতানা খাতুন, তুষার আহমেদ, দেলোয়ার হোসেন, শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে