ঈশ্বরদীতে ছাত্রদল নেতা সোহাগ হত্যা মামলায় ৪ মাসে গ্রেফতার ২

এফএনএস (সেলিম আহমেদ; ঈশ্বরদী, পাবনা) : | প্রকাশ: ১ আগস্ট, ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম
ঈশ্বরদীতে ছাত্রদল নেতা সোহাগ হত্যা মামলায় ৪ মাসে গ্রেফতার ২

পাবনার ঈশ্বরদীতে দীর্ঘ ৪ মাসে চাঞ্চলকর ছাত্রদল নেতা সোহাগ হত্যা মামলায় গ্রেফতার দুই। গত বৃহস্পতিবার (২রা এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রদলের প্রস্তাবিত কমিটির সদস্য সচিব ও জিয়া সাইবার ফোর্স উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব ইমরান হোসেন সোহাগ (২৭) হত্যার চার মাসে ২ আসামি গ্রেফতার হয়েছে। সোহাগকে গুলি করে ও এলোপাথারী কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত সোহাগ ঈশ্বরদী শহরের সাঁড়া গোপালপুর গ্রামের মন্নবীপাড়া গ্রামের ইমানুল প্রামানিকের ছেলে। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঈশ্বরদী শাখার অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের চার দিন পর ৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৮-১০ জনকে আসামি করে ঈশ্বরদী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। নিহতের বাবা ইমানুল  প্রামাণিক এই মামলার বাদী। তবে মামলার পরপরই মামলার তদন্ত ভার জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের উপর ন্যস্ত করা হয়। ঈশ্বরদী থানা সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামিদের সঙ্গে জমিজমা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে অনেক দিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল নিয়ত সোহাগ ও তার পরিবারের লোকজনের সঙ্গে। নিহত সোহাগের বাবা ইমানুল প্রামানিক এজাহারে উল্লেখ করেন গত ২ এপ্রিল কাজ শেষে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে বাড়ি ফিরে জানতে পারি, খাবার খেয়ে দুপুর আড়াইটার দিকে ছেলে ইমরান হোসেন সাঁড়া গোপালপুর আখ সেন্টারে যায়। সেখানে তার বন্ধু অন্তর হোসেন, মোঃ শান্ত, মোঃ রিশাদসহ স্থানীয় অন্য বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটায়। পরে সোহাগ, অন্তর ও বিশাদকে মোটরসাইকেলে করে ঈশ্বরদী বাজারে আসে। বাজারে রিশাদকে নামিয়ে দিয়ে অন্তরকে সঙ্গে করে পুনরায় সাঁড়া গোপালপুর আখ সেন্টারে ফিরে আসে সোহাগ। 

এজাহারে তিনি আরো উল্লেখ করেন, ফিরে আসার পর রাত সাড়ে নটার দিকে সাঁড়া গোপালপুর আখ সেন্টারের পিছনে মোঃ মিজান নামে একজন তালতলা মোড়ে যাওয়ার কথা বলে সোহাগের কাছ থেকে তার মোটরসাইকেলটি নিয়ে যায়। মোটরসাইকেলটির জন্য অপেক্ষা করছিল সোহাগ। এ অবস্থায় রাত পৌনে দশটার দিকে সাঁড়া গোপালপুর স্কুল মাঠের পেছন থেকে এজাহার নামীয় ও অজ্ঞাতনামা আসামিরা হেলমেট পরিহিত অবস্থায় গুলি করতে করতে রেল লাইনের উপরে আসে। গোলাগুলির শব্দ শুনে ছেলে ও তার বন্ধু অন্তরসহ আশপাশের লোকজন দৌড়ে পালানোর সময় স্কুলের সামনে রেল লাইনের পাশে একটি চায়ের দোকানের গলির মধ্যে পৌঁছামাত্র আসামিরা পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে আমার ছেলে ইমরান হোসেনকে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি গুলি করতে থাকে। আসামিরা গুলি করে সোহাগের মাথার বাম পাশের কপাল হতে ডান পাশের গাল  ও মাথার খুলি ক্ষত-বিক্ষত করে এবং ডান পাশের বুকের ওপর ও গলার নিচে গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

নিহতের বাবা ও মামলার বাদী ইমানুল প্রামানিক বলেন, এভাবে প্রকাশ্যে গুলি করে আমার ছেলেকে হত্যা করা হলো। চার মাসে ২ জন আসামি গ্রেফতার হলেও বাকিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। আমার ছেলে সোহাগ হত্যার সাথে জড়িত সকল আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার দাবি করছি।

ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আশাদুর রহমান বলেন, মামলার তদন্ত বর্তমানে ডিবি পুলিশ করছে, তাই এ বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে চাননি। পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কর্মকর্তা মোঃ রাশেদুল ইসলাম বলেন, তদন্ত ভার পাওয়ার পর থেকেই আমরা গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। সোহাগ হত্যার সাথে জড়িত দুইজন আসামীকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করে পাবনা জেলা কারাগারে প্রেরণ করেছি। তাদের দেয়া তথ্য এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে আমরা সূক্ষ্ম ভাবে যাচাই বাছাই করছি। আশা করছি অন্যান্য আসামিদের অতিদ্রুত আইনের আওতায় আনতে পারবো।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে