দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা একটি মানবিক, সৃজনশীল ও মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ গঠনের অন্যতম ভিত্তি। শিশু-কিশোররা যদি পড়াশোনার পাশাপাশি সংগীত, আবৃত্তি, নাটক ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে, তবে তারা মাদক, সন্ত্রাস, অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে থাকবে। এর মাধ্যমে তারা দেশপ্রেমিক, সৃজনশীল ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। রোববার (২ আগষ্ট) বিকেলে লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ীতে ঐতিহ্যবাহী ‘জলতরঙ্গ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী’ পরিদর্শনকালে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সংস্কৃতি চিন্তা ও নৈতিকতা বিকাশের হাতিয়ার
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির হলরুম, পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ এবং সার্বিক পরিবেশ ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আরও আধুনিক, কার্যকর ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আরও বলেন, সংস্কৃতি কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি মানুষের চিন্তা-চেতনা, নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের শক্তিশালী হাতিয়ার। বর্তমান প্রজন্মকে সুস্থ ধারার সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করা গেলে একটি আলোকিত, সহনশীল ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে আরও বলেন, ‘জলতরঙ্গ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী’ ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে শুদ্ধ সংগীত ও সংস্কৃতি চর্চার আরও শক্তিশালী কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। এখান থেকে জাতীয় পর্যায়ের শিল্পী, সংগীতজ্ঞ, আবৃত্তিকার ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব তৈরি হবে, যারা দেশীয় সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরবে। সরকারের পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটি আগামী দিনে আরও সমৃদ্ধ হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। জলতরঙ্গ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিপ্লব পাল বলেন, ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি এ অঞ্চলে শুদ্ধ সংগীত ও সাংস্কৃতিক চর্চার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আসছে। প্রতিষ্ঠাতা আসাদুল হাবিব দুলুর এ পরিদর্শন প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে এক নতুন অনুপ্রেরণা জোগাল। ভবিষ্যতে এখান থেকে আরও বেশি প্রতিভাবান শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মী জাতীয় পর্যায়ে অবদান রাখবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পরিদর্শন ও মতবিনিময়কালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মনোনীতা দাস, সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আল আমিন সরকার, বড়বাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা লিমন, জলতরঙ্গ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিপ্লব পাল প্রমূখ। এছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং জলতরঙ্গ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘জলতরঙ্গ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী’ লালমনিরহাটের বড়বাড়ী অঞ্চলে শুদ্ধ সংগীত ও সাংস্কৃতিক শিক্ষা বিস্তারে দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শিল্প-সংস্কৃতির মাধ্যমে মানবিক, সৃজনশীল ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও নানা ধরনের সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।