মেহেরপুরের গাংনীতে জাল স্বাক্ষর করে ছেলে ভাগ্নে ও ভাইস্তে সহ ৫ জনকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে করমদি দারুচ্ছুন্নাহ নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসা সুপার আবু জাফরের বিরুদ্ধে। মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতিনিধি ও সদস্য সচিব সহ কয়েকজনের জাল স্বাক্ষর করে নিয়োগ দেওয়ার পর তাদের বেতন করার জন্য নানা ভাবে শিক্ষা অফিসারের কাছে তদবির ও চাপ প্রয়োগ করছে মাদ্রাসা সুপার আবু জাফর ও তার শ্যালক আওয়ামীলীগ নেতা করমদি দারুচ্ছুন্নাহ নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আব্দুল মান্নান। এদিকে জালিয়াতির ঘটনায় কেন এমপিও বন্ধ করা হবে না পত্র প্রাপ্তির তিন কর্ম দিবসের মধ্যে উক্ত বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও প্রমাণক সহ লিখিত দিতে মাদ্রাসা সুপার আবু জাফরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার।
নিয়োগের কাগজপত্র যাচাই করে দেখা গেছে,২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে সুপার আবু জাফরের ছেলে ইয়াসির আরাফাতকে ল্যাব সহকারী,ভাগ্নে ও তার শ্যালক আওয়ামীলীগ নেতা করমদি দারুচ্ছুন্নাহ নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আব্দুল মান্নানের মেয়ে সাদিয়া মান্নানকে মায়াকে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর,ভাইয়ের ছেলে মনিরুল ইসলামকে নিরাপত্তা প্রহরী,রোজিনা খাতুনকে আয়া ও মাসুমকে পরিচ্ছণ্নতা কর্মী পদে নিয়োগ দিয়েছে। তবে কোথায়, কখন ও কিভাবে পরীক্ষা হয়েছে সে বিষয়ে নিয়োগ বোর্ডের সদস্য সহ সংশ্লিষ্টদের কেউই কিছু জানেন না। নিয়োগপ্রাপ্তরা ২৩ অক্টোবর কাগজে কলমে যোগদান করেছে। তবে জাল স্বাক্ষর ও ভুয়া কাগজপত্রের কারনে কারোর বেতন ভাতা হয়নি। এবিষয়ে নিয়োগপ্রাপ্তরা কোন কথা বলতে রাজি হয়নি।
এর আগে দুটি অপ্রচলিত পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে স্থানীয়রা স্বজনপ্রীতি ও নিয়োগ বানিজ্য বন্ধে মহাপরিচালক সহ বিভিণ্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। করমদি পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা সুজন মাহমুদ বলেন, নিয়োগের বিষয়ে জানতে গ্রামের একাধিক মানুষ মাদ্রাসায় গেলেও সুপার কোনো তথ্য দেননি। বিভিন্ন আয়া ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে পদে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়ে নিয়োগ দিয়েছে বলে এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে। তবে সুষ্ঠ তদন্ত করলে সুপার আবু জাফরের নিয়োগ সহ নানা অনিয়ম বের হয়ে আসবে।
করমদি মাঠপাড়ার রাসেল মাহমুদ জানান, তিনি একটি পদের জন্য যোগাযোগ করেছিলেন। কমিটির সভাপতি আব্দুল মান্নান তার কাছে ১২ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন। সে টাকা দিতে না পারায় অন্য একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। নিয়োগ বোর্ডের সদস্য সচিব মোছা. শামসুন্নাহার বলেন, ফলাফল শিটে থাকা স্বাক্ষরটি তার নয়। পরীক্ষা কবে, কোথায় ও কীভাবে হয়েছে সে সম্পর্কে তার জানা নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাদ্রাসার কয়েকজন সহকারী শিক্ষক জানান, প্রতিষ্ঠানে এখন পর্যন্ত বৈধভাবে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি, তবে নিয়োগের নামে স্বাক্ষর জাল করে আত্নীয় করন ও অবৈধ টাকা লেনদেন হয়েছে। মাদ্রাসায় সুপার আবু জাফর জানান, নিয়োগ বৈধভাবে দেয়া হয়েছে। এবিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি তিনি।মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল মান্নান বলেন নিয়োগ নিয়ে সাংবাদিকদের মাথা ঘামানোর প্রয়োজন নেই। গাংনী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মনিরুল ইসলাম জানান, নিয়োগ সম্পন্ন ভুয়া ও জালস্বাক্ষরে হয়েছে। এছাড়া ডিজির যিনি প্রতিনিধি ছিলেন তার আদেশর বাতিল করেছে অধিদপ্তর। এছা শিক্ষা অফিসার হিসেবে তিনি কিছুই জানে না তবুও বেতন বিলে স্বাক্ষরের জন্য তদবির ও চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করছেন। জালিয়াতির ঘটনায় গত ২৩/০৫ ২০২৬ ইং তারিখে মাদ্রাসা সুপার আবু জাফরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে মাদ্রাসায় পাঁচ জন কর্মচারী নিয়োগের বিষয়ে মাদ্রাসা অধিদপ্তর কর্তৃক ডিজি মহোদয়ের প্রতিনিধি মনোনয়নের পত্রটি স্থগিত হওয়া সত্বেও কিভাবে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করলেন? নিয়োগ পরীক্ষায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল সীটে মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধির কোন স্বাক্ষর নেই। তারপরও কিভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলেন? বিধি বহির্ভূতভবে নিয়োগ প্রদান করে এমপিও প্রাপ্তির জন্য আবেদন করেছেন। এটা কিভাবে সম্ভব? বিধি বহির্ভূত ভাবে নিয়োগ প্রদান ও এমপিও এর জন্য আবেদন করেছেন। এমন বিধিবহির্ভূত কর্মের জন্য কেন আপনার এমপিও বন্ধ করা হবে না পত্র প্রাপ্তির তিন কর্ম দিবসের মধ্যে উক্ত বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও প্রমাণক সহ লিখিত দিতে বলেছেন। তিন কর্মদিবস পার হলেও তিনি কোন উত্তর দেননি বরং বিভিণ্ন ভঅবে বেতন করানোর জন্য তদবির করছেন। কারন দর্শানোর জবাব না দেওয়ার ঘটনায় ব্যস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি। মহাপরিচালকের প্রতিনিধি সহকারী পরিচালক অর্থ মোহাম্মদ শুকুর আলম মজুমদার বলেন,তিনি কোন পরীক্ষার ফলাফল শীটে স্বাক্ষর করেননি। তার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে।