ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শহরের সর্বত্রই এখন অসুস্থ রোগাক্রান্ত বকন বা গাই গরুর মাংস বিক্রি চলছে। কোথাও সবল বা সুস্থ ষাঁড় গরুর মাংস পাওয়া দুস্কর। প্রচার রয়েছে, অসুস্থ্য গাই গরুর মাংস বিক্রিতে পৌরসভার বাজার তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা উৎকোচ পেয়ে থাকেন। যে কারনে অসাধু মাংশ বিক্রেতারা প্রতিনিয়ত গাই গরু জবাই করে ষাঁড়ের মাংস বলে চালাচ্ছেন। এতে সাধারন মানুষ মাংশ কিনে প্রতারিত হওয়াসহ জনস্বাস্থ্য মারাত্নক হুমকির মুখে পড়ছে।
সরেজমিনে গত মঙ্গলবার সকাল আট টার দিকে শহরের বড় বাজার ব্রীজ ঘাট, নলডাঙ্গা রোড, আড়পাড়া নতুন বাজার ও বৈশাখী মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে গিয়ে দেখা গেছে, সকলেই গাই/ বকন গরুর মাংস বিক্রি করছে। কিন্তু, তাদের দোকানে কোন গরুর মাংশ তার নামের কোন নেমপ্লেট ঝুলানো নেই। অথচ মাংস বিক্রিকালীন সময়ে গরুর নাম লিখে টানিয়ে রাখা বাধ্যতামূলক করা হলেও তা কেউই মানছে না। মাংশ ব্যবসায়ীরা কম দামের অসুস্থ্য বকন গরু জবাই করে বিক্রিতে ক্রেতাদের সাথে প্রতারনা করছে।
ব্রীজ ঘাটের এক গরুর মাংশ বিক্রেতা জানান, ষাড় গরুর অনেক দাম। বেশি দামের গরু কিনে তা বিক্রয়ে লাভ কম হয়। এজন্য শহরের বেশির ভাগ ব্যবসায়ীই বকন বা গাই গরুর মাংশ বিক্রিতে ঝুকে পড়েছে। তিনি স্বীকার করেন, আজকেও সকালে বাড়ী থেকে গাই গরু জবাই করে এনে মাংশ বিক্রি করছেন। তবে, পৌরসভার তদারকি কর্মকর্তা গরু স্বাস্থ্য বা মাংশ পরিক্ষা করেছেন কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, পৌরসভার দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ এখনো তাদের দোকানে আসেননি। তিনি ১০ টার দিকে এসে পৌর আদায় রশিদ দিয়ে টাকা নিয়ে যাবেন।
বাজারে মাংশ কিনতে আসা কালীগঞ্জ কাচাপাকা মাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারন সম্পাদক জিল্লুর রহমান জানান, মাংশ বিক্রেতা ব্যবসায়ীরা তারই সংগঠনের সদস্য। তবে তিনি অসুস্থ্য রোগাকান্ত গাই বা বকন গরুর মাংশ বিক্রির ঘোর বিরোধিতা ও ধিক্কার জানান। আজকে কোন ব্যবসায়ী সবল স্বাস্থ্য সন্মত ষাড় গরু জবাই না করাতে তিনিও প্রয়োজনের তাগিদে গাই গরুর মাংশ কিনতে বাধ্য হয়েছেন। এ বিষয়টির তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তাৎক্ষনিক কালীগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী মহোদ্বয়কে ফোনে বিষয়টি জানিয়ে ব্যবস্থা গ্রহনের আহব্বান জানান।
এদিকে খবর পেয়ে কিছ সময় পরই ঘটনাস্থলে আসেন কালীগঞ্জ পৌরসভার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন। তিনি জানান, মাংশ বিক্রেতাদের তদারকির দ্বায়িত্ব তার দপ্তরের অধিনিই। আব্দুস সামাদ নামে একজন কর্মকর্তা তদারকির দ্বায়িত্বে আছেন। তিনি বাজারে বের হলেও এখনো এ দোকানে কেন আসেনি তা বলতে পারছেন না। তবে, গাই গরুর মাংশ বিক্রি চললেও নামের নেমপ্লেট কেন দোকানী প্রদর্শন করেননি সে বিষয়ে তিনি অবশ্যই ব্যবস্থা নিবেন। তিনি আরো জানান, পশু জবাইয়ে পৌর কসাইখানা না থাকাতে পরিক্ষা ছাড়াই মাংশ ব্যবসায়ীরা যত্রতত্র পশু জবাই করে থাকে। এতেই সমস্যাটি জটিল হয়েছে বলে জানান তিনি। পশু মাংশের বাজার তদারকির দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ বলেন, মাংশ বিক্রেতাদের সাথে তার কোন সখ্যতা নেই। এছাড়া অসুস্থ্য রোগাকান্ত গরুর মাংশ বিক্রেতাদের থেকে বাড়তি উৎকোচ নেবার বিষয়টিও সঠিক নয়। তিনি বলেন, পৌর কসাই খানা না থাকাতে গরু জবাইয়ের আগে তিনি তার পরিক্ষা বা দেখতে পারেন না। কিন্তু , নিয়ম মাফিক প্রতিদিন মাংশের দোকানে গিয়ে রশিদের মাধ্যমে টোল আদায় করে থাকেন বলে যোগ করেন তিনি। কালীগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীরা অসুস্থ্য গাই বা বকন গরুর মাংশ বিক্রির বিষয়টি অবহিত হয়েছেন। দ্রুতই মোবাইল কোট পরিচালনাসহ ব্যবসায়ীদের ডেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান তিনি।