নীলফামারীর সৈয়দপুরে কয়েকদিন থেকে চলছে অব্যাহত লোড শেডিং। প্রিপেইড মিটার স্থাপনের পর মোবাইলে দেয়া হয় খুদেবার্তা (এসএমএস)।তারপর গ্রাহকদের আইনী নোটিশের হুমকি দিয়ে বাড়ানো হয় অতিরিক্ত লোড। ফলে সে সময় থেকে ক্ষোভ বিরাজ করছে স্থানীয় বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মধ্যে। লোড বাড়ানোর পর থেকে অস্বাভাবিক বিল খাচ্ছে মিটার। এদিকে এমনিতেই চাহিদামত বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। তার ওপর প্রায়ই সময় চলছে লোডশেডিং। সৈয়দপুর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্র থেকে প্রায় অর্ধলাখ গ্রাহককে ওই এসএম এস পাঠানোর মধ্যদিয়ে অতিরিক্ত লোড বাড়ানো হয়।
গ্রাহকদের অভিযোগ, প্রিপেইড মিটারের মাধ্যমে আগেই মূল্য পরিশোধ করে তারা বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন। তারপর লোড শেডিংয়ের কারণে দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। তারা বলেন,প্রতি রাত দিন মিলে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটাতে হচ্ছে বিদ্যুৎবিহীন।
বিদ্যুতের লোড শেডিংয়ের কারণে চিকিৎসা সেবা, শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা, কল-কারখানার উৎপাদন ব্যবস্থা ভেঙ্গে পরেছে। আর দীর্ঘদিন ধরে এ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এ জনপদের সব শ্রেণীর গ্রাহকদের। সে সময় মোবাইলে ওই মেসেজে বলা হয়,আপনার ব্যবহৃত লোড অনুমোদিত লোডের চেয়ে বেশি। তাই মেসেজ প্রাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে অতিরিক্ত লোড অনুমোদন করাতে হবে। অন্যথায় বিধি মোতাবেক সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে । কর্তৃপক্ষের এমন হুমকিমূলক বার্তা পেয়ে সে সময়ে তোলপাড় শুরু হয় ৪৯ হাজার ৩ শ' ৮৮ জন গ্রাহকের মধ্যে। তাদের অনেকেই ছুটে যান সৈয়দপুর বিদ্যুৎ বিতরণ ও বিক্রয় কেন্দ্রে। এ ম্যাসেজ নিয়ে বিক্ষুদ্ধ গ্রাহকদের সাথে বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকতা ও কর্মচারীদের বাকবিতন্ডার ঘটনাও ঘটে। পরে উত্তেজিত গ্রাহকদের বুঝিয়ে শান্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।
নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড সৈয়দপুর বিদ্যুৎ বিতরণ ও বিক্রয় কেন্দ্র কার্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, এ উপজেলায় আবাসিক,বাণিজ্যিক, ক্ষুদ্র- মধ্যম ও ভারি শিল্প, রাস্তার বাতি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির, অটো চার্জিং ও সরকারি মিলে ৪৯ হাজার ৩শ ৮৮ জন গ্রাহক রয়েছে। বিপুল সংখ্যক এ গ্রাহকরা শুরু থেকেই প্রয়োজনের তুলনায় কম লোড নিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে। এতে মিটার, সার্ভিস তার ও শর্ট সার্কিটে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। তাই দুর্ঘটনা এড়াতে নেসকো গ্রাহকদের লোড বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছে । এতে কিলোওয়াড প্রতি মাসে অতিরিক্ত মাত্র ৩৫ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। কোন প্রকার বাড়তি ব্যয় হবে না।
সূত্র মতে, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদানুপাতে সরবরাহ কম থাকায় বর্তমানে লোড শেডিং হচ্ছে। এখানকার গ্রাহকদের জন্য মাসে ২৫ মেগাওয়াড বিদ্যুৎ প্রয়োজন। সেখানে জাতীয় গ্রিড থেকে মাত্র ১০ থেকে ১২ মেগাওয়াড সরবরাহ মিলছে। যার ফলে লোড শেডিং হচ্ছে। আসন্ন সেচ মৌসুমের চাহিদা বাড়বে ৩০ থেকে ৩৫ মেগাওয়াড। বাড়তি সরবরাহ না মিললে লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে। সৈয়দপুর বিদ্যুৎ বিতরণ ও বিক্রয় কেন্দ্রের (নেসকো) আবাসিক নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, গ্রাকদের সেবায় আমরা নিয়োজিত। লোডশেডিং হচ্ছে,অল্প সময়। দ্রুত সময়ে এটির সমাধান হবে।
এক গ্রাহক বলেন,আমার বাসায় একটি ফ্রিজ, দুইটি সেলিং ফ্যান,তিনটি বাতি। মাসে মিটার খায় দুই হাজার টাকা। অথচ সৈয়দপুর শহরের পলিথিন কারখানাগুলোতে ভারী মেশিন দীর্ঘ সময় চললেও বিল তেমন একটা আসে না,এর কারণ কি। সন্ধার পর সারারাত ধরে চলে পলিথিন কারখানাগুলো। ওই কারখানাগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান দাবি করছি। এদের মিটারে নিশ্চয়ই কোন ঘাপলা আছে।