দেশজুড়ে পরিবেশ রক্ষা ও কৃষিজমি সংরক্ষণের লক্ষ্যে পোড়ামাটির ইটের বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কংক্রিট হলোব্লক। সেই ধারাবাহিকতায় নীলফামারীর সৈয়দপুরেও এইচ এইচ এ ব্লক এন্ড ইট ইন্ডাস্ট্রিজ শুরু করেছে সরকার অনুমোদিত প্রযুক্তিতে মাটিবিহীন পরিবেশবান্ধব কংক্রিট হলোব্লক ইট উৎপাদন। ফলে একদিকে যেমন কৃষিজমির উর্বর মাটি রক্ষা পাবে, অন্যদিকে নির্মাণ খাতে ব্যবহারকারীরা পাবেন অধিক মজবুত, টেকসই ও আধুনিক নির্মাণসামগ্রী।
কোম্পানির ম্যানেজার ফরিদুল ইসলাম রেজা জানান, এই হলোব্লক ইট সম্পূর্ণ দেশীয় উপকরণ দিয়ে প্রস্তুত করা হচ্ছে। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কৃষিজমির মাটি পোড়ানোর প্রয়োজন হয় না এবং পরিবেশে ধোঁয়া বা ক্ষতিকর গ্যাসের নির্গমনও ঘটে না। ফলে এটি পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী হিসেবে ইতোমধ্যে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করছে।
কারখানায় বিভিন্ন মাপ ও নকশার কংক্রিট হলোব্লোক উৎপাদন করা হচ্ছে।
যেমন সলিট ইট,ফ্রিহোল,হলোব্লক,রেজিং ব্লক। তবে গ্রে ও লাল দুই রঙের ব্লকই ক্রেতাদের নজর কাড়ছে। আবাসিক ভবন, বাণিজ্যিক স্থাপনা, সড়ক, সীমানাপ্রাচীরসহ বিভিন্ন ধরনের নির্মাণকাজে এসব ব্লক ব্যবহার করা সম্ভব।
কোম্পানির প্রধান মেশিন ম্যানের মতে, প্রচলিত পোড়ামাটির ইটের তুলনায় হলোব্লক অধিক শক্তিশালী, টেকসই এবং নির্মাণ ব্যয় ও সময় কমাতেও সহায়ক।
নির্মাণ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সরকার পরিবেশবান্ধব নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারে উৎসাহ দিচ্ছে। সে কারণে কংক্রিট হলোব্লকের চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে। ভবিষ্যতে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্পে এর ব্যবহার আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তারা আশাবাদী।
পরিবেশবিদদের মতে, পোড়ামাটির ইট তৈরিতে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ কৃষিজমির উর্বর মাটি নষ্ট হয় এবং ইটভাটা থেকে নির্গত ধোঁয়া পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ অবস্থায় পরিবেশবান্ধব কংক্রিট হলোব্লকের উৎপাদন ও ব্যবহার বৃদ্ধি টেকসই উন্নয়ন এবং সবুজ বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সৈয়দপুরে এই উদ্যোগ স্থানীয় নির্মাণ শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। উদ্যোক্তারা আশা করছেন, মানসম্মত ও পরিবেশবান্ধব এই কংক্রিট হলোব্লক ইট দেশের নির্মাণ খাতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।
সৈয়দপুরে ব্লক এন্ড ইট কোম্পানির মালিক হারুন- অর - রশীদ। তিনি জানান,২০২২ সালে শহরের ধলাগাছ বাইপাস মহাসড়ক ঘেষে ওই কোম্পানি স্থাপন করেন। তার কোম্পানিতে কাজ করছেন ২০ জন শ্রমিক। তিনি বলেন,সরকার অনুমোদিত এ কোম্পানিগুলো বর্তমানে অবহেলিত। তাই এ সকল কোম্পানিগুলোর দিকে সরকারের নজর দেয়া জরুরি। সরকারি সহায়তা পেলে পরিবেশবান্ধব এ সকল কোম্পানিগুলো ঠিকে থাকবে নয়তো অল্প সময়ের মধ্যে বিলীন হয়ে যেতে পারে। তখন হয়তো অবৈধ ইট ভাটার দাপট বেড়ে যাবে। ক্ষতি হবে পরিবেশ,ফসলি জমি,মানবজীবন।