ইসলামপুর দশানী নদীর তীব্র ভাঙনে দিশেহারা নদীপাড়ের মানুষ

এফএনএস (এস এম এ হালিম দুলাল; জামালপুর) :
| আপডেট: ৫ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম | প্রকাশ: ৫ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম
ইসলামপুর দশানী নদীর তীব্র ভাঙনে দিশেহারা নদীপাড়ের মানুষ

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের শাখা-দশানী নদীতে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। পানির তীব্র স্রোতে প্রতিদিন নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা,গাছপালা,গ্রামীণ সড়ক ও ফসলি জমি। ভাঙনের আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের মানুষ। বর্তমানে একটি বাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান  নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, ভাঙ্গন কবলিত  গ্রামের মানুষ চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। স্রোতের আবর্তে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে যে কোন মুহুতে বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের অবলম্বন ফসলি জমি একের পর এক নদীতে বিলিন যাচ্ছে। কৃষক আমিনুল  বলেন, আমার মাত্র কয়েক বিঘা জমি তারমধ্যে বেশীর ভাগ জমির ফসল পাটসহ নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। এখন বাড়িটাও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এই মুহুতে পরিবার নিয়ে কোথায় আশ্রয় নিবো সেই চিন্তায় দিন কাটছে আমাদের। মূত চান মিয়ার স্ত্রী বৃদ্ধা নুরবানু বলেন যে ভাবে নদী ভাংছে,চিন্তায় আইতে  (রাতে) ঘুমাতে পারি না। ”আংগরে যাবার যাগা নাই। কই যামু আমার স্বামী নাই, সন্তানদের নিয়ে আতঙ্কে আছি। শিক্ষক মো. শাহিন ইসলাম বলেন, যে ভাবে নদীভাঙন চলতে এভাবে চলতে থাকলে আশপাশের বাড়িঘর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান,বাজারটি হুমকির মুখে পড়বে। দ্রুত প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেয়া না হলে সবকিছু নদীতে বিলিন হয়ে যাবে। স্থানীয় এলাকাবাসিরা জানান, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে দশানী নদীর ভাঙনে বিলিন হলেও এখনও স্থায়ীভাবে ভাঙ্গন প্রতিরোধের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিবছর নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকার খোঁজখবর নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি অবগত করেছি। জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নকিবুজ্জামান বলেন, ইসলামপুর নদী ভাঙন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয়েছে।নির্দ্দেশ পেলে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এলাকাবাসির দাবি, জরুরী ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করে ভাঙন রোধ করা খুবই প্রয়োজন অন্যথায় চলতি বর্ষার মৌসুমে অসংখ্য পরিবারের বসতভিটা,ঘরবাড়ি, ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়বে। তাই স্থায়ী ভার তীর সংরক্ষণ বাদ নির্মাণের দাবী জানিয়েছেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে