বাগেরহাট শহরের প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত খান জাহান আলী ডিগ্রী কলেজে জুলাই গনঅভ্যুথ্যান দিবস পালিত হয়নি। এ নিয়ে জেলা জুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টিকে জুলাই আন্দোলনকে অস্বীকার করার নামান্তর হিসেবে মনে করছেন জুলাই যোদ্ধা ও সচেতন মহল। কলেজের একাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পাঁচ আগস্ট উপলক্ষে কলেজে কোন আয়োজন ছিল না। কলেজে এই অনুষ্ঠান করার করার জন্য কোন সভাও হয়নি।
বাগেরহাট জেলা ছাত্র দলের সভাপতি মোল্লা আতিকুর রহমান রাসেল বলেন, জেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৫ আগস্ট পালন করেছে। খানজাহান আলী ডিগ্রি কলেজ দিবসটি পালন না করায় আমরা। তীব্র প্রতিবাদ জানাই। একটি তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে, কেন পালন হয়নি সেই বিষয়টি উদঘাটন করা প্রয়োজন। যারা ইচ্ছে করে এই দিবস পালন করেনি তাদেরকে আইনের আওতায় আনার দাবী জানান এই ছাত্রনেতা। বাগেরহাট সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান শিমুল বলেন, জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা দ্বিতীয় স্বাধীনতা পেয়েছি। জুলাই আন্দোলন আমাদের কথা বলার অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু কিছু মানুষ এখনো জুলাইকে অস্বীকার করছে। সারা বাংলাদেশের যখন যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত হয়েছে। আর তখন অবস্থিত খানজাহান আলী ডিগ্রী কলেজে এ নিয়ে কোনো আয়োজন ছিল না। বিষয়টি আমাদেরকে ব্যথিত করেছে। তদন্তপূর্বক কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানান এই নেতা।
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ খোন্দকারর আসিফ উদ্দিন রাখির মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলে তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকা সহযোগি অধ্যাপক শেখ শাহিন হোসেন বলেন, সুবিধাজনক সময়ে দিবসটি উদযাপনের পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আমাদের প্রতিষ্ঠানে কোন সভা বা কোন আলোচনা হয়নি। কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি মুস্তাহিদুল আলম রবি বলেন, কলেজের অধ্যক্ষের স্ত্রী অসুস্থ্য থাকায় অধ্যক্ষ ছুটিতে রয়েছেন। ৮ আগস্টের পরে সুবিধাজনক সময়ে জুলাই গনঅভ্যুত্থান দিবস পালন করা হবে।