চাঁদপুর নদী বন্দরের প্রবেশমুখে বড় স্টেশন মোলহেড সংলগ্ন মেঘনা নদীর তীব্র ঘূর্ণি স্রোতের কবলে পড়ে ৪৪০০ বস্তা শাহ সিমেন্টবোঝাই ‘এইচ এম পরিবহন’ নামের একটি ট্রলার ডুবে গেছে। এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ট্রলারটির মালিক হানিফ বেপারি ।
দুর্ঘটনার সময় ট্রলারে থাকা চারজন আরোহীকে স্থানীয় ট্রলার ও নৌকার মাঝিদের সাহসিকতায় অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ থেকে সকালে ৪৪০০ বস্তা শাহ সিমেন্ট নিয়ে ট্রলারটি চাঁদপুরের দিকে রওনা দেয়। এরপর দুপুর বারোটার দিকে চাঁদপুর নদী বন্দরে প্রবেশের সময় শহরতলীর বাগরা বাজার ঘাটে পৌঁছানোর পূর্বেই বড় স্টেশন মূল হেডের নিকটবর্তী মেঘনা নদীর ঘূর্ণি স্রোতের মুখে পড়ে ট্রলারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যায়। ডুবে যাওয়া ট্রলারটির সুকানি হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন আইয়ুব আলী এবং এর মালিক হানিফ ব্যাপারী। ঘটনার পরপরই পার্শ্ববর্তী নৌকার মাঝিরা দ্রুত এগিয়ে এসে ট্রলারের সুকানিসহ চার আরোহীকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। বড় কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও আকস্মিক এ দুর্ঘটনায় প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রলার মালিক হানিফ বেপারি। খবর পেয়ে চাঁদপুর থানা পুলিশ দুর্ঘটনস্থল পরিদর্শন করে তথ্য সংগ্রহ করেছেন।
চাঁদপুর জেলা সিমেন্টবাহী ট্রলার ও বাল্কহেড মালিক সমিতির সভাপতি আকবর হোসেন মাতব্বর,সাধারণ সম্পাদক মাজারুল ইসলাম দাদন জানান, কোম্পানির সিমেন্ট গেছে কিন্তু ট্রলার মালিকের কি হবে। তার একমাত্র সম্বল ট্রলারটি মেঘনা নদীতে তলিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে আমরা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
স্থানীয়দের মতে, চাঁদপুর বড় স্টেশন মোলহেড সংলগ্ন মেঘনার ওই এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই নৌ-চলাচলের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে। তীব্র ঘূর্ণি স্রোত এবং নৌ-চ্যানেলের এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে মাঝেমধ্যেই এ ধরনের ছোট-বড় নৌ-দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।