চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় মোবাইল চুরির সন্দেহে মো. তারেক ঢালী (১৮) নামের এক যুবককে মধ্যযুগীয় কায়দায় গাছের সাথে বেঁধে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি মতলব সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় সফিক প্রধান (৩৫) নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট ২০২৬) সকালে উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর দক্ষিণ পাড়া প্রধানীয়া বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত জাকির হোসেন ঢালীর ছেলে তারেক ও তার ছোট ভাই রাসেল (১৩) ঢাকায় একটি ক্যান্টিনে চাকরি করেন। সম্প্রতি ছুটিতে বাড়িতে আসেন তারেক। ঘটনার দিন ভোরে প্রধানীয়া বাড়ির আল-আমীন, সফিক, তানিম ও মোতালেব তাকে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে যান।
আহতের মা খুকী বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "১২ বছর আগে আমার স্বামী মারা যায়। অনেক কষ্ট করে দুই সন্তানকে বড় করেছি। মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে কোনো কথা না বলেই আমার ছেলেকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় সফিক, আল-আমিন, তানিম ও মোতালেব প্রধান। পরে তাদের বাড়িতে নিয়ে মোবাইল চুরির সন্দেহে গাছের সাথে বেঁধে নারিকেল গাছের ডাল দিয়ে পিটিয়ে জখম করা হয়। এমনকি মাথায় গামছা বেঁধে গরম পানিও ঢালা হয়।"
তিনি আরও অভিযোগ করেন, থেমে থেমে টানা ৬-৭ ঘণ্টা নির্যাতন চালানো হলেও আশপাশের কেউ ভয়ে তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। পরে স্থানীয় কয়েকজন বিকেল ৩টার দিকে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। অর্থাভাবের কারণে ঠিকমতো চিকিৎসাও করাতে পারছেন না বলে জানান তিনি।
খবর পেয়ে বুধবার (১২ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান মানিক আহত তারেককে দেখতে তার বাড়িতে যান এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে ন্যায়বিচারের আশ্বাস দেন।
স্থানীয় বাসিন্দা নবী উল্লাহ পাটোয়ারী বলেন, "খুবই অসহায় ও গরিব দুটি ভাই ঢাকায় কাজ করে। একটি কুচক্রী মহল হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে ধরে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছে। আমরা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।"
মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাফিজুর রহমান মানিক জানান, "অভিযুক্ত সফিক প্রধানকে সন্ধ্যায় এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"