ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের মেঘনা নদীতে মাটি খেকুদের বিরূদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছেন ইউএনও মো. সাইফুল ইসলাম। গত বুধবার উপজেলার অরূয়াইল ইউনিয়নের চর কাকরিয়া এলাকায় মেঘনার তীরে অভিযান চালিয়ে অবৈধ পন্থায় মাটি উত্তোলন ও পাচারের সাথে জড়িত ৭ মাটি খেকুকে আটক করেছেন। আটকের প্রত্যেককে দিয়েছেন ৪০ দিনের জেল। সেই সাথে এই কাজে ব্যবহৃত ড্রেজার ও বাল্কহেড জব্দ করেছেন তিনি। এখানে মাটি খেকুদের তান্ডব থামাতে ইউএনও’র এমন ভূমিকাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তরী বাংলাদেশ সরাইল শাখার আহবায়ক মোহাম্মদ খান।
ইউএনও’র দফতর ও স্থানীয় একাধিক সুত্র জানায়, সম্প্রতি সরাইলে মাটি খেকুদের তান্ডব আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিবেশ আইন অমান্য করে সম্পূর্ণ অবৈধ পন্থায় এরা দেদারছে কাটছে নদী ও ফসলি জমি। ড্রেজার দিয়ে ইচ্ছেমত মাটি কেটে বাল্কহেড ও ট্র্াক দিয়ে মাটি পাচার করছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায়। ফলে নদীর পাড়ের লোকজনের জীবন-যাপন হুমকির মুখে পড়ছে। এক জমির মাটি কাটার পর পাশের জমি গুলো ভেঙ্গে ওই গর্ত করা জমিতে পড়ছে। ধ্বংস করছে ফসলি জমি, নদ নদী ও প্রকৃতি। মেঘনায় মাটি কাটায় সরাইলের অরূয়াইল এলাকার চর কাকরিয়া, রাজাপুর, দুবাজাইল, ধামাউড়া গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আর পানিশ্বর ইউনিয়নের নদীর তীরবর্তী পালপাড়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম অলরেডি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ঝুঁকি ও আতঙ্কে আছে আরো ২-৩ টি গ্রাম। ভাঙ্গন আতঙ্কে রয়েছে চুন্টা ইউনিয়নের নরসিংহপুর গ্রাম। এমতাবস্থায় গত বুধবার দুপুরে অরূয়াইলের চরকাকরিয়ায় অভিযান পরিচালনা করেন সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম। অভিযানকালে তিনি মাটি খেকু চক্রের ৭ সদস্যকে আটক করেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে মাটি উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত একটি বাল্কহেড ও একটি ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হয়েছে। আটককৃতরা হলেন- মো. আলামিন (২৫), রাহাত (০৭), আওলাদ হোসেন (২৮), মো. ফুরকান মিয়া (৩৩), হৃদয় (১৮), আবুল কাসেম (৪০) ও কামাল (৫০)। পরে ভ্রাম্যমান আদালত বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে আটক ৭ জনের প্রত্যেকে ৪০ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেছেন। ওই আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ছিলেন ইউএনও মো. সাইফুল ইসলাম। নদী প্রকৃতি ও পরিবেশ ধ্বংসকারীদের বিরূদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ায় ‘তরী বাংলাদেশ’ সরাইল উপজেলা শাখার আহবায়ক মোহাম্মদ মাহবুব খান ইউএনও’কে সাধুবাদ জানিয়ে বলেছেন, গুটি কয়েক ব্যক্তির স্বার্থের কাছে জাতীয় স্বার্থ জিম্মি থাকতে পারে না। দেশের প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব এসব কাজের বিরূদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিসহ সুশিল সমাজের সকলে এই কাজে ইউএনও কে সহযোগিতা করা প্রয়োজন।