পূর্ব সুন্দরবনে বনরক্ষীদের প্রতিনিয়ত টহল এবং আধুনিক প্রযুক্তির ড্রোন আকাশে উড়িয়ে পর্যবেক্ষন ও নিবিড় নজরদারির কারনে বিষ দিয়ে মাছ ধরা ও হরিণ শিকারের ঘটনা গত বছর ২০২৫ সালের জুন থেকে আগস্ট মাসের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছর জুন থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত আড়াই মাসে উল্লেখ যোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
বন বিভাগ সূত্র জানায়, চলতি বছর জুন থেকে ১৫ আগস্ট — এ আড়াই মাসে নিষেধাজ্ঞার সময় বনরক্ষীরা সুন্দরবনে ৩,২১৪টি অভিযান পরিচালনা করে ৪টি মামলা দায়ের করেন। এ সময় ১৩টি নৌকা, ৬টি মাছ ধরার জাল এবং ৩২ বোতল, ২ লিটার তরল ও ৩ প্যাকেট বিষ জব্দ করা হয়। এ ছাড়া উদ্ধার করা হয় ১৫১.৫ কেজি বিষযুক্ত চিংড়ি এবং ৫ কেজি ও ২ বস্তা শুঁটকি মাছ।
গত বছরের ২০২৫ সালের একই সময়ে (জুন-আগস্ট) ৩ মাসে বনরক্ষীরা অভিযান চালিয়ে ৫ জন আসামিকে গ্রেফতারসহ ৮টি মামলা দায়ের করেন। সে সময় ২৭টি নৌকা, ২১টি জাল, ৫২ বোতল ও ৫ লিটার বিষ, ২৪৫ কেজি বিষযুক্ত মাছ, ১৪৫ কেজি বিষযুক্ত চিংড়ি, ১৭৭ কেজি সাদা মাছ এবং ২২ বস্তা শুঁটকি উদ্ধার করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, চলতি বছর মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত সাড়ে ৫ মাসে হরিণ শিকার সংক্রান্ত ৬টি মামলায় ৯ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় কোনো হরিণের মাংস, চামড়া বা মৃত হরিণ উদ্ধার হয়নি। ২টি নৌকা ও ৩টি ট্রলার আটকসহ জব্দ করা হয়েছে ১৪ হাজার,৩৮১ ফুট মালা ফাঁদ, ১১০টি ছিটকা ফাঁদ, ৪৬ ফুট হাটা ফাঁদ ও ৬৯টি দোয়া ফাঁদ।
গত বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত সময়ে হরিণ শিকারের ২০টি মামলায় ১২ জন শিকারি আটক হয়েছিল। সে সময় ১৫৬.৫ কেজি হরিণের মাংস, ৫টি মাথা, ৮টি পা, ২টি চামড়া ও ২টি মৃত হরিণ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ৯টি নৌকা ও ৬টি ট্রলার আটকসহ জব্দ করা হয় ৩৩ হাজার ,৭০৩ ফুট মালা ফাঁদ, ২৫৮টি ছিটকা ফাঁদ, ১হাজার ,৫০৫ ফুট হাটা ফাঁদ ও ২৫ ফুট গলা ফাঁদ।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় বন বিভাগ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন ও প্রযুক্তিনির্ভর। দুর্গম বনাঞ্চলে নিয়মিত বিশেষ অভিযান ও টহল জোরদারের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর ড্রোন দিয়ে আকাশপথে নিবিড় নজরদারি পরিচালনা করা হচ্ছে। যার কারনে হরিণ শিকারি ও বিষ প্রয়োগকারী অসাধু চক্রের তৎপরতা অনেকটাই বন্ধ হয়ে গেছে বলে তিনি জানান।