কালীগঞ্জে ডাকাতির ঘটনায় গৃহকর্ত্রী খুন, বাবা-মেয়ে গুরুতর জখম

মোঃ আল-আমিন দেওয়ান; কালীগঞ্জ, গাজীপুর | প্রকাশ: ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:৩১ পিএম
কালীগঞ্জে ডাকাতির ঘটনায় গৃহকর্ত্রী খুন, বাবা-মেয়ে গুরুতর জখম
গাজীপুরের কালীগঞ্জে ব্যবসায়ীর বাড়ীতে দুর্র্ধষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দল গৃহকর্ত্রীকে কুপিয়ে খুন করে গৃহকর্তা ও তার মেয়েকে গুরুতর জখম করেছে। নিহতের নাম মোসা. কামরুন নাহার আক্তার (৩৫)। আহত তার স্বামী মঞ্জুরুল হক (৪০) ও মেয়ে সানজিদা আক্তার (১৬)। ঘটনাটি শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাতে কালীগঞ্জের নাগরী ইউনিয়নের নগরভেলা তেঁতুইবাড়ি গ্রামে ঘটেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার মধ্যরাতে নগরভেলা গায়েনবাড়ী এলাকার বাসিন্দা রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল ইসলামের টিনশেড বাড়ির গ্রিলের গেটের তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকে ১০-১২ জনের একদল ডাকাত। এ সময় আশপাশের কয়েকটি বাড়ির বাসিন্দাদেরও অবরুদ্ধ করে রাখে তারা। বাড়িতে ঢুকেই তারা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাঁদের কোপাতে শুরু করে। এ সময় ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসতে শুরু করলে ডাকাত দল পালিয়ে যায়। ততক্ষণে মঞ্জুরুল ইসলামের স্ত্রী মোসা. কামরুন নাহার আক্তার মারা যান। আহত ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল ইসলাম ও তার মেয়ে সানজিদা আক্তার মিমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কালীগঞ্জ থানার উলুখোলা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) ফাইজুর রহমান বলেন, ডাকাতদের অস্ত্রের আঘাতে গৃহকর্ত্রী মোসা. কামরুন নাহার ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। আহত দুইজনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এই পরিবার একটি এনজিও থেকে ২০ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। টাকা নিতে এসে ডাকাত দলের সদস্যরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। বাড়ির ভেতরের আসবাবপত্র সব গোছানো অবস্থায় রয়েছে। বাড়ির সদস্যরা হাসপাতালে থাকায় কোনো মালামাল বা টাকা লুট হয়েছে কি না তা এখনো জানা যায়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, হামলার ধরন দেখে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা ডাকাত বেশে এসে এই হামলা চালিয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ক্রাইমসিন ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসেছেন। তাঁরা ভেতরে প্রবেশের পর বিষয়টি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানান তিনি। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে। শনিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ ও তদন্ত শুরু করেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে