পটুয়াখালীর বাউফলের ভাঙন কবলিত তেঁতুলিয়া নদী থেকে অবৈধ ও অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ এবং এর আইনি বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে একটি জনস্বার্থমূলক রিট পিটিশন দায়ের করেছেন আইনজীবী ও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন। রোববার উচ্চ আদালতের বিচারপতি আহমদ সোহেল এবং বিচারপতি ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের দ্বৈত বেঞ্চে রিট পিটিশনের শুনানি হয়। শুনানি শেষ রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ প্রদান করেন।
রিট আবেদনে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিন , বিআইডব্লিউটিএ-এর চেয়ারম্যান মো. মুহিদুল , বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ , পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মাদ শহীদ হোসেন চৌধুরী, বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার সালেহ আহমেদ, সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. সোহাগ মিলু ও বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সিরাজুল ইসলামকে বিবাদী করা হয়। রিটকারী আইনজীবী ও এনসিপি নেতা মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন জানান, কয়েক যুগ ধরে তেতুলিয়া নদীতে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। তীব্র ভাঙনে হাজার হাজার মানুষ ঘর বাড়ি জমিজমা হারিয়ে নিঃশ্ব হয়ে গেছে। এই ভাঙন কবলিত এলাকায় বালু মহল ইজারা স্থগিত করার পরেও বাউফল পৌর বিএনপির সভাপতি হুমায়ন কবির অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন। যা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পরেও স্থানীয় প্রশাসন অদৃশ্য কারণে ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তাই রিট পিটিশন দায়ের করেছি। আদালত রিট শুনানি শেনে রুল নিশি জারি করেন এবং বালু উত্তোরন বন্ধের নির্দেশ দেন।
জানা যায়, চলতি বছরে তেতুলিয়া নদীকে বুড়াগৌরঙ্গ নদী দেখিয়ে বালু মহল ইজারা প্রদান বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে উপজেলা প্রশাসন। ভাঙন কবলিত তেঁতুলিয়া নদীতে অন্য নদীর নামে বালু মহল ইজারা দেওয়ার খবর জানাজানি হলে ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এনিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশ হয়। পরে গত ১০ জুন সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. সোহাগ মিলু স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বালু মহল ইজারা স্থগিত করেন। তবে বাউফল পৌর বিএনপির সভাপতি হুমায়ন কবির ওরফে নাইয়া কবির অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখেন। এতে তেঁতুলিয়া নদী পাড়ের নাজিরপুর ও চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে ব্যাপক ভাঙন দেখা দেয়। স্থানীয়রা উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও প্রশাসন বালু উত্তোলন বন্ধে রহস্যজনকভাবে কোনো অভিযান কিংবা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
জনশ্রুতি রয়েছে, প্রভাবশালী বিএনপি নেতা হুমায়ন কবির প্রশাসন ম্যানেজ করেই ইজারা বন্ধ থাকার পরেও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখেন। যদিও হুমায়ন কবির দাবি করছেন, তেঁতুলিয়া নদীতে নব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে। তাই বালু কাটার ফলে নদীর ভাঙন বৃদ্ধি পায়নি। বিএনপি নেতা হুমায়ন কবির বলেন, জামায়াতের লোকজন ষড়যন্ত্র করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা গুজব ছড়াচ্ছে। এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, ভাঙন কবলিত হওয়ায় বালু মহল ইজারা স্থগিত করা হয়। একই সাথে অবৈধবালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান চালানো হয়, তবে অভিযানের খবরে বালু উত্তোলনকারীরা পালিয়ে যায়।