তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপন এমপি বলেছেন, জিয়া পরিবার বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য একটি বাতিঘর হিসেবে কাজ করছে। দেশের জন্মলগ্ম থেকে যে সংকট, প্রতিটি সংকটের সমাধান হিসেবে হাজির হয়েছে জিয়া পরিবার। রবিবার (১৬ আগস্ট) রাত নয়টায় বরিশালের গৌরনদী উপজেলা অডিটোরিয়ামে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধানে বেগম খালেদা জিয়ার অবিস্মরণীয় ভূমিকা ও বর্তমান প্রেক্ষিত’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপত্বির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী আরো বলেছেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত দুইটার সময় যখন সব নেতারা পালিয়ে গিয়েছিলেন, তখন জাতিকে পথ দেখিয়েছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের খন্দকার মোস্তাকরা যখন শেখ মুজিবকে হত্যা করে দেশে অরাজকতা তৈরি করলো, সেই পরিস্থিতি থেকে দেশকে আবার একটা শান্তিপূর্ন জায়গায় নিয়ে আসার উদ্যোগ নিয়েছেন আমাদের নেতা জিয়াউর রহমান। তিনি রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব করলেন এবং বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের দর্শনকে তিনি প্রণয়ন করেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, তার (জিয়াউর রহমান) মৃত্যুর পর আবার যখন সংকট শুরু হয়েছিলো। তখন আমাদের নেত্রী রাজপথে দীর্ঘ এক দশকের সংগ্রামের মধ্যদিয়ে জনগনের রায় নিয়ে এদেশের প্রথম নির্বাচিত নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশ, দল এবং জাতিকে ১৯৯১ সালে আবারো উদ্ধার করেছিলেন।
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৯৬ সালে জামায়াত ইসলামী, আওয়ামী লীগ ও জাতীয়পার্টি মিলে বিএনপিকে ক্ষমতা থেকে উৎখাতের জন্য দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছিলো তা আমাদের সকলের মনে আছে। সেইদিনও বেগম খালেদা জিয়া তাদের নৈরাজ্যেকে সাংবিধানিকভাবে মোকাবেলা করে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করে সংসদে ত্রয়োদশ সংশোধনী পাশ করার মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে সংবিধানে অর্ন্তভূক্ত করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের করেন। পরে পরাজয় মেনে নিয়ে তিনি বিরোধী দলে চলে গিয়েছিলেন। একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে যে দায়িত্ব, সেদিন তিনি সেটাই পালন করেছিলেন। ক্ষমতা আকঁড়ে রাখার জন্য সেদিন আওয়ামী লীগ, জামায়াত ও জাতীয়পার্টির রক্তক্ষয়ী ষড়যন্ত্রের ফাঁদে তিনি পা দেননি।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ২০০৬ সালে ১/১১’র চক্রান্তের মধ্যদিয়ে আবার মাইনাস টু থিউরি আমরা দেখেছি। তখন তিনি ধীরস্থীর ভাবে সবকিছু মোকাবেলা করেছেন। দেশ-বিদেশ নানান চক্রান্তের মধ্যদিয়ে যখন এই কাজ হয়েছে এমনকি পরাজয়ের কথা জেনেও ২০০৮ সালে নির্বাচনে অংশগ্রহন করেছেন যাতে সাংবিধানিক ধারাটা থাকে। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জিতে ২০০৯ থেকে ২০২৪ আওয়ামী লীগের পতন পর্যন্ত তারা যা করেছে, আমরা তা দেখেছি এবং তাদের পরিণাম কি হয়েছে তাও আমরা দেখেছি। এই দীর্ঘ সংগ্রাম, আন্দোলনের পথপরিক্রমা অভিজ্ঞতা নিয়ে কিশোর তারেক রহমান যুবক তারেক রহমানে পরিণত হয়েছে। যুবক তারেক রহমান আজ দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়েছেন এবং জনগনের ভোটে তিনি আজ দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। এভাবেই জিয়া পরিবার দেশের প্রতিটি সংকটের সমাধান হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।
বিএনপির গৌরনদী উপজেলা ও পৌর শাখা এবং সকল অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকটে মো. আসাদুজ্জামান এমপি। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মিজানুর রহমান খান মুকুল, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব, সদস্য সচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু, পৌর বিএনপির আহবায়ক জাকির হোসেন শরীফ, ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব সফিকুর রহমান শরীফ স্বপন, উপজেলা বিএনপি নেতা ও গৌরনদী প্রেসক্লাবের সভাপতি জহুরুল ইসলাম জহির প্রমুখ। শেষে বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।