আশুলিয়ায় তালাবদ্ধ ঘরে স্বামী-স্ত্রী ও নবজাতকের মরদেহ, হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক ধারণা পুলিশের

নিজস্ব প্রতিবেদন | প্রকাশ: ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০১:৪৯ পিএম
আশুলিয়ায় তালাবদ্ধ ঘরে স্বামী-স্ত্রী ও নবজাতকের মরদেহ, হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক ধারণা পুলিশের
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার মধ্য জামগড়ায় একটি তালাবদ্ধ ভাড়া বাসা থেকে এক পুরুষ, এক নারী ও এক নবজাতকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতরা স্বামী-স্ত্রী ও তাদের নবজাতক সন্তান হতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। পুরুষের গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় মরদেহ পাওয়ায় ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিক ধারণা পুলিশের।

শুক্রবার গভীর রাতে মধ্য জামগড়া এলাকার হাজী হযরত আলীর মালিকানাধীন চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে মরদেহ তিনটি উদ্ধার করা হয়। কক্ষ থেকে তীব্র পচা দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়রা বিষয়টি বুঝতে পারেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে জানানো হয়।

খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কক্ষটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ দেখতে পায়। পরে তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহগুলো অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল।

পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, নিহত নারী ও পুরুষ গত ৯ আগস্ট স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে ওই কক্ষটি ভাড়া নেন। এরপর থেকে ঘরটির দরজা-জানালা প্রায় সব সময় বন্ধ থাকত। শুক্রবার রাতে কক্ষ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হলে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিহতরা স্বামী-স্ত্রী ও তাদের সন্তান।

ওসি বলেন, পুরুষের গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় মরদেহ পাওয়ায় ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তার ভাষ্য, ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে।

তবে নিহতদের পরিচয়, হত্যার কারণ এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক টিম গিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। পাশাপাশি ঢাকা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ ও আশুলিয়া থানা-পুলিশও ঘটনাটি তদন্ত করছে।

পুলিশ বলছে, নিহতদের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ চলছে। কারা তাদের হত্যা করেছে এবং এর পেছনে কী কারণ রয়েছে, তদন্তে এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে।

এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিহত তিনজনের নাম-পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর মধ্য জামগড়া এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে