ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা সদরে ফাজিলখার ডাঙ্গী গ্রামের আ’লীগ আমলের ভুমি দস্যু মৃত মালেক মুন্সির ছেলে নান্নু মুন্সি (৪০) এর কবল থেকে ১৭ বছর পর পৈত্রিক সম্পত্তি উদ্ধার করেছেন অসহায় আক্কাস আলী খান (৫০)। আক্কাস আলী খান বি.এস ডাাঙ্গী গ্রামের মৃত: উসমান গণি খানের ছেলে। পিতামাতাহীন অসহায় আক্কাস আলী খান দীর্ঘকাল পর নিজেদের পৈত্রিক সম্পত্তি উদ্ধার করে সেখানে বসতভিটে নির্মান করে চলেছেন বলে জানিয়েছেন।
বিগত আ’লীগ আমলে প্রভাব প্রতিপত্ত্বি খাটিয়ে ভুমি দস্যু নান্নু মুন্সি গং চরভদ্রাসন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উত্তর দিকে ফসলি মাঠের মধ্য সিমানার ইটের রাস্তা ঘেষে ডান পাশে উক্ত অসহায় পরিবারের ১১ শতাংশ জমি এবং রাস্তার বাম পাশে তার চাচাদের আরও ১১ শতাংশ সহ মোট ২২ শতাংশ জমি জবর দখল করে রেখেছিল বলে অভিযোগ। কিন্ত আওয়ামী দুঃশাষন অবসানের পর সম্প্রতি আক্কাস আলী খান তাদের ১১ শতাংশ জমি দখলদারের কবল থেকে উদ্ধার করে সেখানে বসতভিটে নির্মান করে চলেছেন বলে জানা যায়।
শনিবার অসহায় আক্কাস আলী খান জানায়, এস.এ এবং দিয়ারা জরীপের রেকর্ডীয় মালিকের কাছ থেকে তার পিতা উচমান গণি খান এবং চাচা জালাল উদ্দিন খান ১৯৭২ সালে ৯৫৭৭ নং দলিলমূলে ২২ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। সেই স্বত্ত্বে তারা ক্রয়কৃত জমির উপর প্রথমে এস.এ মিউটেশন ও পরে দিয়ারা মিউটেশন করে জমির মালিকানা দাবী করে আসছিল। উক্ত অসহায় পরিবারের জমির তপসিল পরিচয় হলো-১৬৪ নং চরভদ্রাসন মৌজা যাহা দিয়ারা ১১ নং চরভদ্রাসনের মধ্যে দিয়ারা প্রস্তাবিত ২৫-৪১৫৩ নং খতিয়ান হইতে আগত ৮৫ নং খতিয়ানের ৭৫৫৯ নং দাগ ও ৪৮৬৯ নং দাগভুক্ত জমি।
কিন্তু বিগত আ’লীগ সরকারের আমলে নান্নু মুন্সি গংরা নিজেদের প্রভাব প্রতিপত্ত্বি খাটিয়ে ভিন্ন দাগের একটি দলিল দেখিয়ে অসহায় আক্কাস আলী খানদের মূল্যবান জমি জবর দখল করে নেয় বলে অভিযোগ। দখলদার নান্নু মুন্সির নামে জমির মিউটেশনে দাগগুলো হচ্ছে- ৬৮১৯ নং দাগ, ৪৮৭১ নং ও ৪৮৬৭ নং দাগভুক্ত জমি। যাহা অসহায় পরিবারের জমির দাগের সাথে কোনো মিল নেই। এছাড়া দখলদারদের প্রদর্শনকৃত দলিল দাতাদের নামে কোনো রেকর্ড নাই। ফলে দখলদারের নামে মিউটেশনটি রহস্যময় বলেও অভিযোগ রয়েছে। অসহায় আক্কাস আলী খান আরও জানায়, নিজেদের সম্পত্তিটুকু হারিয়ে বিগত ১৭ বছর জমির কাগজপত্র নিয়ে বসে যাচাই করার জন্য দখলদারদের বহুবার অনুরোধ করেছেন। কিন্তু দখলদাররা আ’লীগ সরকারের প্রভাব প্রতিপত্তি দেখিয়ে তাদের কথার কোনো পাত্তাই দেয় নাই।
সম্প্রতি, এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তি ও দলিলপত্র এক্সপার্টদের নিয়ে জমির কাগজপত্র যাচাই করে অসহায় পরিবারটি তাদের জমিতে মাটি ফেলে বসতভিটে নির্মান করে চলেছেন। কিন্তু দখলদার নান্নু মুন্সি গংরা অসহায় পরিবারের জমিতে কাজ বন্ধের জন্য চরভদ্রাসন থানায় একটি অভিযোগ পত্র পেশ করেছেন।
এ অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা চরভদ্রাসন থানার এসআই আঃ করিম জানান,“ থানায় অভিযোগ পত্র দায়েরের পর থেকে কাগজপত্র নিয়ে বসার জন্য বাদী পক্ষকে বহুবার অনুরোধ করেছি। কিন্তু তারা বসতেছে না। আর নান্নু মুন্সিকে ফোন দিলে ফোনও ধরে না। তাদের পক্ষে মুজিবর সর্দার নামক এক ব্যাক্তি শুধু সময় নিয়ে কালক্ষেপন করছেন”।
এ ব্যপারে দখলদার নান্নু মুন্সিকে বার বার ফোন দেওয়ার সে জানায়, “ এলাকার গন্যমান্য শহিদুল ইসলাম মোল্যা ও শাহাদাত মৃধাকে জড়িয়ে থানায় অভিযোগ করেছি। তারা উক্ত ১১ শতাংশ জমি সাড়ে ৩৪ লাখ টাকায় কিনার কথা বলে আমাকে দীর্ঘদিন ঘুড়িয়েছে। তারা আমার একাউন্টে টাকা পাঠানোর কথা দিয়েও পরে জমি কিনে নাই। তাই থানার অভিযোগ পত্রে আমি তাদের নাম ঢুকিয়ে দিয়েছি”।
একই দিন শহিদুল ইসলাম মোল্যা ও শাহাদাত মৃধাকে জিজ্ঞেস করলে তারা জানান, “ আমরা এলাকায় জমির ব্যাবসা করি। আমরা উক্ত জমির কাগজপত্র যাচাই করে দেখেছি ওই জমি দখলদার নান্নু মুন্সিরা পবেন না। তাই আমরা তার জমি কিনি নাই বিধায় সে আমাদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে থানায় অভিযোগ করেছে”।