রাজশাহীতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন

এম এম মামুন; রাজশাহী | প্রকাশ: ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম
রাজশাহীতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার, বহিষ্কার ও সনদ বাতিলসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ। একই সঙ্গে হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তাকে দায়ী করেছেন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র ভবনের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব দাবি জানানো হয়। মানববন্ধনে বিভাগের অধ্যাপক আল-আল মামুন বলেন, ‘জুলাইয়ের পরে এ ধরনের ঘটনার মুখোমুখি হতে হবে, এমন দৃশ্য দেখতে হবে—আমরা তা আশা করিনি। এই ঘটনায় দুই পক্ষ ফেসবুকে একে অপরকে মারার হুমকি দিয়ে আসছিল। গত দুই দিনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রায় নিষ্ক্রিয় ছিল। এই সুযোগেই সহিংস ঘটনা ঘটেছে। আমাদের দাবি পরিষ্কার—যারা সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তির প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সাংবাদিকেরা জনগণের চোখ ও কান হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁরা আমাদের রক্ষাকবচ। আমরা যদি সঠিক সাংবাদিকতার সুযোগ না রাখি, তাহলে দেশ আবার অন্ধকারে ঢুকে যাবে।’ শিক্ষকতার তিন দশকে সাংবাদিকদের ওপর এমন হামলা কখনো দেখেননি বলে মন্তব্য করে অধ্যাপক মশিহুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা করে ফৌজদারি আইনের আওতায় শাস্তির ব্যবস্থা করুক। একই সঙ্গে অপরাধ প্রমাণিত হলে ছাত্রত্ব বাতিলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। যাতে শিক্ষার্থীরা নির্ভয়ে চলাফেরা করতে পারে এবং গণমাধ্যমকর্মীরা নির্বিঘ্নে তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন।’ সহযোগী অধ্যাপক কাজী মামুন হায়দার বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গণমাধ্যম সংস্কারের বদলে রাতারাতি দখলের চেষ্টা হয়েছে। সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল করা হয়েছে। দুটি গুরুত্বপূর্ণ গণমাধ্যমে সরাসরি হামলাও হয়েছে। ঢাকায় যখন এসব হামলা হচ্ছে, তখন রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতিরা এসব হামলায় মদদ দিচ্ছেন। যে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সংস্কারের কথা বলা হয়েছিল, তার বদলে পরিস্থিতি আরও ধ্বংস হয়েছে। সর্বশেষ গতকাল এখানেও নির্দিষ্ট করে সাংবাদিকদের মারধর করা হয়েছে।’ বিভাগের সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন বকুল বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীরা যখন রক্তাক্ত, ব্যথায় কাতর, তখন আমাদের মানববন্ধনে দাঁড়াতে হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আমরা আজ ক্লাস বর্জন করেছি। দুপুরে একাডেমিক কমিটির সভাও আহ্বান করা হয়েছে। সেখানে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।’ বিভাগের শিক্ষার্থী ফারজানা তন্বি বলেন, ‘সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনার স্পষ্ট ফুটেজ রয়েছে। আজকের মধ্যে প্রশাসন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না করলে তাদের পদত্যাগ করা উচিত। যে প্রশাসনের সামনে শিক্ষার্থীদের মারধর করা হয়, সেখানে প্রশাসনের অস্তিত্ব নেই।’ মানববন্ধনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি ইরফান তামিম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সভাপতি আশিকুল ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির অর্থ সম্পাদক দীন ইসলামসহ বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবু সালেহ শোয়েব। এর আগে গতকাল রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় চার সাংবাদিকসহ প্রায় ১০ জন আহত হন। আহত সাংবাদিকেরা হলেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু।
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে