দুশ্চিন্তা বেড়েছে পোশাক খাতে দ্রুত পদক্ষেপ নিন

এফএনএস | প্রকাশ: ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম
দুশ্চিন্তা বেড়েছে পোশাক খাতে দ্রুত পদক্ষেপ নিন

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের ফলে জ্বালানি-সংকটের প্রভাব পড়েছে দেশের তৈরি পোশাক খাতে। পর্যাপ্ত জ্বালানির অভাবে শিল্পকারখানাগুলো গভীর সংকটে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, যুদ্ধের প্রভাব ব্যাপকভাবে না পড়লেও যদি লম্বা সময় স্থায়ী হয় তাহলে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে। সামনে সংকট আরও দীর্ঘ হলে তা মোকাবিলায় সরকারের পলিসির ওপর নির্ভর করতে। এমন পরিস্থিতিতে শিল্প খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা খুব জরুরি। বিশেষ করে খাদ্যসামগ্রী, ভোজ্যতেল, ওষুধ, সার এবং কৃষি সম্পর্কিত উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সরকারকে দ্রুত কার্যকর নীতি নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন অর্থনীতিবিদ, শিল্প উদ্যোক্তা ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় পরিকল্পিত ও অগ্রাধিকারভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়া এখন গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যমতে, দেশের শিল্প খাত প্রধানত গ্যাস ও বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৬৬ শতাংশ গ্যাসভিত্তিক। মধ্যপ্রাচ্য থেকে এলএনজি আমদানি ব্যাহত হওয়ায় শিল্পাঞ্চলগুলোতে গ্যাসের চাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এই সংকটময় মুহূর্তে পোশাক রপ্তানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ শিল্পটিকে টিকিয়ে রাখতে ৪ হাজার কোটি টাকার বকেয়া প্রণোদনার অর্থ দ্রুত ছাড় করার দাবি জানিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, ব্যাংক ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ-গ্যাস ও পরিবহণ খরচ বেড়ে যাওয়ায় রপ্তানিকারকরা তীব্র আর্থিক সংকটে ভুগছেন। তবে কেবল সাময়িক আর্থিক প্রণোদনা দিয়েই এই বিশাল খাতের দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সরকারের পক্ষ থেকে নীতিগত সহায়তার ক্ষেত্রে আরও দূরদর্শী হওয়া প্রয়োজন। জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং এলসি খোলার প্রক্রিয়াকে সহজতর করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ তদারকি জরুরি। একই সঙ্গে বৈশ্বিক এই মন্দার বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ এবং নতুন বাজার সন্ধানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও বাড়াতে হবে। এখনো সরাসরি যুদ্ধের প্রভাব ব্যাপকভাবে না পড়লেও লম্বা সময় এই সংকট চললে থাকলে উৎপাদন ব্যাহত হবে। এ পরিস্থিতিতে অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নিতে হবে, নইলে রপ্তানিমুখী শিল্প মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে। 

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে