জিকে খালে ভেঙে পড়া সেতুতে বন্ধ যোগাযোগ

এফএনএস (টিপু সুলতান; কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ) : | প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম
জিকে খালে ভেঙে পড়া সেতুতে বন্ধ যোগাযোগ

জিকে সেচ খালের উপর ওপরে নির্মিত সেতু ভেঙে পড়ায় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। বাধ্য হয়ে বাঁশের মাচাল দিয়ে চলাচল করছেন ওই এলাকার ৩৭ গ্রামের মানুষ।ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগের সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় সকল প্রকার যানবাহন চলাচল একদম বন্ধ হয়ে গেছে।ঝিনাইদহ ৪ (কালীগঞ্জ) আসন ও সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়ন ও কুমড়োবাড়িয়া ইউনিয়নের বিষয়খালী জিসি-নগরবাথান জিসি ভায়া ডেফলবাড়ী সড়কের ভবানীপুর-ডেফলবাড়ী এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের খালের ওপর নির্মিত সেতুটি ২০২৫ সালের জুন মাসে প্রবল বর্ষণে পানির তোড়ে ভেঙে পড়ে।এ সেতু দিয়ে চলাচলকারী জানান, প্রায ৪৫ বছর আগের নির্মিত সেতুটি গত পাঁচ বছর ধরে নড়বড়ে ছিল। এ অবস্থায় স্থানীয় ইটভাটার মাটি বহনকারী ট্রাক চলাচল করায় সেতুটি ভেঙে পড়েছে। এতে ওই সেতু দিয়ে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।৩৭ টি গ্রামের প্রায় অর্ধ লাখ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ফলে গ্রামের মানুষের সহযোগিতায় সেতুর ভেঙে যাওয়া বাঁশের মাচাল বিছিয়ে সাধারন মানুষ জীবনের ঝুকি নিয়ে চলাচল করছে।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। যেকোনো মুহূর্তে মানুষের মৃত্যুসহ বড় ধরনের বিপদে পড়তে পারে।

ফলে সদর উপজেলার দুটি ও কালীগঞ্জ উপজেলার হাজার হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছেন। এতে বিশেষ করে স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও কৃষিপণ্য পরিবহনকারী ব্যক্তিরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কুমড়াবাড়িয়া ও মহারাজপুর ইউনিয়নের সংযোগকারী একমাত্র রাস্তাটি বিষয়খালী জিসি-নগরবাথান জিসি ভায়া ডেফলবাড়ী সড়ক। প্রায় ৪৫ বছর আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি) সড়কের ভবানীপুর-ডেফলবাড়ী এলাকায় গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের খালের ওপর সেতুটি নির্মাণ করেছিল।২০২৫ সালের জুন মাসে প্রবল বৃষ্টির সময় পানির তোড়ে সেতুটি ভেঙে পড়ে। দীর্ঘ ৯ মাস পার হলেও সেতুটি পুনর্র্নিমাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে স্থানীয়দের উদ্যোগে সেখানে একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। তবে সেই সাঁকোটিও এখন নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। ফলে অটোরিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেল চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।কিন্তু গত ৯ মাস পার হলেও সেটি অপসারণ বা সেখানে নতুন কোনো সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ।সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সমন্বয়হীনতার কারণে সেতুটি অপসারণ বা চলাচলের বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে না বলে মনে করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সেতু দিয়ে ঝিনাইদহ,কালীগঞ্জ,কোটচাদপুর, চুয়াডাঙ্গা জেলায় যাতায়াতের প্রধান সড়ক।

স্থানীয় বাসিন্দা মকলেচুর রহমান,জাব্বারুল ইসলাম বলেন, প্রায় ৯ মাস আগে সেতুটি ভেঙে গেছে। আমরা বিভিন্ন দপ্তরে জানিয়েছি কিন্তু এখনো কোনো সমাধান পাইনি। কবে সেতু হবে, কেউ বলতে পারে না।স্কুল শিক্ষার্থী সজিব হোসেন জানায়, আগে আমরা সহজেই সেতু পার হয়ে স্কুলে যেতাম। এখন বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হতে ভয় লাগে। সাঁকোটিও ভেঙে গেলে স্কুলে যাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়বে।পরিবহন চালকরাও পড়েছেন বিপাকে। ইজিবাইক চালক লাল্টু মিয়া ও বাবুল মন্ডল জানান, সেতু ভেঙে যাওয়ায় তাদের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে আয়-রোজগারে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে।কৃষক হোসেন আলী বলেন, কৃষিপণ্য বাজারে নিতে না পারায় তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। অন্যদিকে ট্রাক চালক জালাল হোসেন জানান, আগে এই সড়ক ব্যবহার করে এক ইউনিয়ন থেকে অন্য ইউনিয়ন অতবা বিভিন্ন জেলায় সহজে পণ্য পরিবহন করা যেত। এখন বিকল্প পথ ব্যবহার করতে গিয়ে সময় ও খরচ দুটোই বেড়েছে। মহারাজপুর ইউনিয়নে মোট গ্রামের সংখ্যা ২৪টি   ও জনসংখ্যা প্রায ৩০ হাজার। কুমড়াবাড়িয়া ইউনিয়নে প্রায় ২১ হাজার মানুষের বসবাস রয়েছে ও গ্রাম রয়েছে ১৩ টি।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এখানে দুটি সেতু ছিল, যার মধ্যে একটি ইতোমধ্যে পুনর্র্নিমাণ করা হয়েছে। ভেঙে পড়া সেতুটি পুনর্র্নিমাণের জন্য পৃথক দুটি প্রকল্প প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত অনুমোদন পাওয়া গেলে নির্মাণ কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে