সিলেট নগরী ও আশপাশের এলাকায় ভূমিকম্প ও আফটারশকের কারণে আতঙ্ক বাড়ছে। ভারতের মেঘালয়ের ডাউকি ফল্ট বা সিলেট বিভাগের অভ্যন্তর থেকে কম্পন অনুভূত হওয়ায় নগরবাসী উদ্বিগ্ন।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা স্থানীয় ফল্টগুলো পুনরায় সক্রিয় হওয়ায় ভূমিকম্পের ঝুঁকি ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।
সিলেট জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম জানিয়েছেন, নগরীর ২৩টি ঝুঁকিপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি ভবন চিহ্নিত করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকেই এই ভবনগুলোর অপসারণ কাজ শুরু হবে।
প্রশাসন জানাচ্ছে, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোতে এখনও কেউ বসবাস বা কাজ করছেন। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, নগরীর পুরনো ভবনগুলোর নকশায় ভূমিকম্প প্রতিরোধী ব্যবস্থা নেই। ঝুঁকির মধ্যে থাকা ভবনগুলোর মধ্যে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মার্কেট ও আবাসিক ভবন।
এর আগে শুক্রবার (২১ নভেম্বর) ৫.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে দুই শিশুসহ ১০ জন নিহত ও কয়েকশ মানুষ আহত হয়। শনিবার (২২ নভেম্বর) আরও তিন দফা কম্পন অনুভূত হয়েছে-সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে ৩.৩, সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিটে ৩.৭ এবং আরও ৪.৩ মাত্রার।
২০১৯ সালে সিসিক নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ ২৪টি ভবনের তালিকা তৈরি করেছিল। এর মধ্যে ৬টি সংস্কারের মাধ্যমে ঝুঁকিমুক্ত করা হলেও ১৮টি এখনও বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর মধ্যে রয়েছে-সমবায় ব্যাংক ভবন মার্কেট, মধুবন মার্কেট, সুরমা মার্কেট, মিতালী ম্যানশন, রাজা ম্যানশন, নবপুষ্প-২৬/এ, আজমীর হোটেলসহ আরও কিছু আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন।