সিলেটে বাড়ছে ছিনতাই, পুলিশের দাবি উল্টো: আতঙ্কে নগরবাসী

এফএনএস (এইচ এম শহীদুল ইসলাম; সিলেট) : | প্রকাশ: ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ০৩:৩৬ পিএম
সিলেটে বাড়ছে ছিনতাই, পুলিশের দাবি উল্টো: আতঙ্কে নগরবাসী

সিলেট নগরে সাম্প্রতিক সময়ে ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় পত্রিকা এবং অনলাইন নিউজ প্রোটালগুলোতে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের পর ফেইসবুক পেইজে বিপরীত প্রেসনোট দিয়েছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)। এসব ঘটনাকে ঘিরে ভুক্তভোগী ও পুলিশের বক্তব্যে দেখা দিয়েছে স্পষ্ট বিরোধ, যা নগরজুড়ে তৈরি করেছে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ। শনিবার ভোরে নগরের টুকেরবাজারের তেমুখী এলাকায় হামলার শিকার হন সাংবাদিক রায়হান আহমদ। বর্তমানে তিনি সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রায়হানের অভিযোগ, সিএনজি অটোরিকশায় আসা তিন ছিনতাইকারী তাকে মারধর করে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন বলেও জানান। তবে সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) বক্তব্য ভিন্ন। পুলিশের দাবি, এটি ছিনতাই নয়; বরং সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এর আগে গত ১২ মার্চ রাতে নগরের তালতলা এলাকায় আরেকটি ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনটি মোটরসাইকেলে আসা ৬-৭ জন যুবক একটি অটোরিকশার গতি রোধ করে এবং যাত্রীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় দুর্জয় অধিকারী (২২) নামে এক তরুণকে মারধর করা হয়। তার অভিযোগ, মারধরের পাশাপাশি তার মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। যদিও এ ঘটনাটিকেও ছিনতাই হিসেবে মানতে নারাজ পুলিশ। তাদের দাবি, এটি পূর্ব বিরোধের জেরে সংঘটিত মারামারির ঘটনা। শনিবার রাতে এসএমপির ফেসবুক পেজে ‘ছিনতাইয়ের মিথ্যা অভিযোগ প্রসঙ্গে’ শিরোনামে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, ব্যক্তিগত বিরোধের ঘটনাগুলোকে ভুলভাবে ছিনতাই হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে, যা অনভিপ্রেত। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকে যাচাই-বাছাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানানো হয় এবং অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়। পুলিশের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন ভুক্তভোগী রায়হান আহমদ। তিনি দাবি করেন, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে ভুল তথ্য দেওয়া হচ্ছে। তার ভাষ্য, “আমি রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি। আমার মাথা ও নাকে আঘাত করা হয়েছে। ঘটনাটি ছিনতাই। এটা তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে।” সাম্প্রতিক সময়ে নগরের আম্বরখানাসহ বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাইয়ের অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব ঘটনার কিছু সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এমন অভিযোগও রয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকেই। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, সিসিটিভিতে ধরা না পড়লে কোনো ঘটনাকে ছিনতাই হিসেবে বিবেচনা করা হবে না কি না। আবার কেউ বলছেন, ব্যক্তিগত বিরোধ হলেও সহিংসতা ও ছুরিকাঘাত কি অপরাধ নয়। তা প্রতিরোধ করা পুলিশের দায়িত্ব। এ বিষয়ে এসএমপির অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) মো. মনজুরুল আলম গনমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তেমুখী ও তালতলার ঘটনাগুলো ছিনতাই নয় বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। তবে এসব ঘটনায় এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের হয়নি বলেও তিনি জানান। তার মতে, অভিযোগ পেলে তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে ছিনতাইয়ের বাড়তি ঝুঁকি নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ও পুলিশের বক্তব্যের এই দ্বৈততা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ফলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে