কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এখন থেকে ফেলে দেওয়া পোড়া মবিল দিয়ে এবার তৈরী হচ্ছে জ্বালানী তেল। কথাটি অবিশ্বাস্য হলেও জ্বালানী তেল তৈরি করে সাড়া ফেলে দিয়েছে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের তারাগুনিয়ার সন্তান মনিরুল ইসলাম। ছয় বছরের প্রচেষ্টায় তার উদ্ভাবন (ম্যাড) দিয়ে খুব কম খরচে, অনাসেই চলবে ডিজেল চালিত ইঞ্জিন। পাঁচ লিটার ফেলে দেওয়া মবিল থেকে মিলবে সাত লিটার ডিজেল! এই তেল দিয়েই চলছে ডিজেল চালিত ইঞ্জিন।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, তেলের অভাবে সেচ দিতে না পারার কারণে, ধান গাছ মরতে শুরু করেছে। ঠিক সেই সময় মনিরুল ইসলামের পরামর্শে পাঁচ লিটার পোড়া মবিলের সাথে ১০০ গ্রামের একটা বুস্টার ঢেলে দিলেই, সাত লিটার ডিজেল হয়ে যায়। এই সময়েই তেল না পেলে আমরা আর কোন চাষবাস করতে পারতাম না। তার এই আবিষ্কার কৃষকের এখন বেঁচে থাকার এক অন্যতম প্রেরণা।
মাঠ পর্যায়ে এই তেল এখন পরিক্ষা মুলক ভাবে ব্যবহার করছে কৃষকরা। এই তেল ব্যবহার করে কৃষকরা হচ্ছে উপকৃত। সেই সঙ্গে কৃষকদের উৎপাদন খরচও কমছে।
সাড়া দেশে যখন জ্বালানি তেল নিয়ে চলছে তেলেস পাতি কারবার । ঠিক সেই সময় মনিরুল ইসলামের আবিষ্কার (ম্যাড) কৃষকদের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে। স্বল্পমূল্যে তেল ব্যবহার করে কৃষকরা হচ্ছে লাভবান। সেই সঙ্গে আর লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে কাউকে তেল দিতে হচ্ছে না এই অঞ্চলের কৃষকদের।
এই অঞ্চলের কৃষকরা জানান , মনিরুল ইসলাম যে তেল আবিষ্কার করেছে, তারা সময় উপযোগী। দৌলতপুর উপজেলা চর বিস্তৃত এলাকা বেশি হাওয়ায়। তেল সংকটের কারণে চাষবাস করতে পারছেনা এখানকার কৃষকরা। মনিরুল ইসলামের তৈরি তেল কৃষকদের জন্য নতুন দিন উন্মোচন করবে।
উপজেলা কৃষি অফিস কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন বলেন, মেসার্স কৃষকের বন্ধু মেশিনারিজের মনিরুল ইসলাম ,ব্যবহৃত ৫ লিটার পোড়া মবিলে একটি বুস্টার ডোজ দিয়ে ৭ লিটার জ্বালানী তেল তৈরি করছে। তবে কোন নেগেটিভ পরিস্থিতি যদি না হয় তাহলে ভালো হবে
আমরা শুনেছি এই তেল পরিক্ষা মুলক ভাবে কৃষকরা ব্যবহার করছে।
তবে আমরা মাঠে সরজমিনে যেয়ে দেখব দেখার পরে যদি দেখি এটা
ভালো কাজ করছে সেই ক্ষেত্রে আমরা উপজেলা প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানাবো জানানোর পরে এটা নিয়ে হয়তো বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা আসবেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আসবেন এসে এটা পরীক্ষামূলক ভাবে যদি দেখা যায় এটা কৃষকের জন্য কার্যকর
তাদের মেশিনের কোন ক্ষতি হচ্ছে না, সেই ক্ষেত্রে আমরা মাঠ পর্যায় কৃষকদের মাঝে অবশ্যই প্রচারণা চালাবো এবং এটার ব্যবহার বড় পরিসরে করা যায় কিনা এ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ
করা হবে।
উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা, অনিন্দ্য গুহ বলেন , বর্তমানে পরিপ্রেক্ষিতে যে ডিজেলের যে চাহিদা রয়েছে, কৃষকরা জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে মনিরুল ইসলাম, ডিজেলের বিকল্প হিসেবে জ্বালানী তেল তৈরি করেছে। এই বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিস ও উপজেলা প্রশাসন এক যোগে কাজ করছে।
দৌলতপুর তারাগুনিয়া গ্ৰামের মো:শামসুল হকের ছেলে মুহা:মুনিরুল ইসলাম। তিনি লেখা পড়া শেষ করে শিক্ষকতার পেশা ছেড়ে ডিজেল ইন্জিন নিয়ে কাজ ও গবেষনা শুরু করেন। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় (মেথড অফ অলটারনেটিভ ডিজেল) তৈরি করে সাড়া ফেলে দিয়েছেন তিনি।
মনিরুল ইসলাম তিনি , চাইনা গিয়েই ক্লু পেয়ে যাই আমার উদ্ভাবিত ম্যাড এর। (মেথড অফ অলটারনেটিভ ডিজেল) উপর কিছু টা কাজ করি। পরবর্তীতে বাংলাদেশে ফিরে এসে ডিজেলের বিকল্প জ্বালানি তেল তৈরির উপায় খুজে বের করি এবং ধাপে -ধাপে ১০০%সফলতার মুখ দেখি। পোড়া মবিলে ম্যাড মিশিয়ে ডিজেলের বিকল্প জ্বালানি বিশ্বে আমিই প্রথম উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়।
(মেথড অফ অলটারনেটিভ ডিজেল) নামে পরিচিত এই জ্বালানী। মনিরুল ইসলাম ছয় বছর ধরে গবেষণা করে আসছিলেন জ্বালানী তেলর উপর। তিনি বারবার ব্যর্থ হওয়ার পরেও তিনি হাল ছাড়েন নাই। অবশেষে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি সফলতার মুখ দেখেন এবং ম্যাড তৈরির সফলতা তিনি অর্জন করেন।
মনিরুল ইসলাম জানান, তার স্বপ্ন দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করা এবং আরো নতুন নতুন উদ্ভাবন সৃষ্টি করা। এরই ধারাবাহিতকায় ২০১৯ সাল থেকে চেষ্টা করে। ফেলে দেওয়া মবিল থেকে জ্বালানী তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি। এখন শুধু দরকার সরকারের সহায়তা।