সৈয়দপুরে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীকে গ্রেফতার দাবিতে মানববন্ধন

এফএনএস (ওবায়দুল ইসলাম; সৈয়দপুর, নীলফামারী) : | প্রকাশ: ১৬ মে, ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম
সৈয়দপুরে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীকে গ্রেফতার দাবিতে মানববন্ধন

নীলফামারীর সৈয়দপুরে স্বামীর দেওয়া আগুনে দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন গৃহবধূ বীথি আক্তার (২৫)। ঢাকার ন্যাশনাল বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে গত বৃহস্পতিবার  তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকেই ঘাতক স্বামী মো. সাজু খান পলাতক রয়েছে। পাষন্ড পলাতক স্বামীকে গ্রেফতার করে আইনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে নিহতের পরিবারসহ এলাকাবাসী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। ১৬ মে সৈয়দপুর প্রেসক্লাবের সামনে ঘন্টাব্যাপি ওই মানববন্ধনে শতাধিক নারী পুরুষ অংশ নেয়।

নিহত বীথি আক্তার সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের নিজামের চৌপথী বড়বাড়ি গ্রামের বাবুল হোসেনের মেয়ে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে একই উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের সোনাখুলী জামবাড়ি গ্রামের নজরুল ইসলাম চেল্লুর ছেলে মো. সাজু খানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের তিন বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সাজু খান পেশায় মাহিন্দ্রা ট্রাক্টর মেকানিক হিসেবে কাজ করতেন। স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে তিনি নীলফামারী শহরের গাছবাড়ি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। দীর্ঘদিন ধরে তাদের দাম্পত্য জীবনে পারিবারিক কলহ ও যৌতুক সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৯ মে পারিবারিক কলহের জেরে সাজু খান বীথি আক্তারের শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এরপর তিনি বাসার গেটে তালা দিয়ে তিন বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে পালিয়ে যান।  প্রতিবেশীরা চিৎকার শুনে এগিয়ে এসে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় বীথিকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাকে নীলফামারী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারপর রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল হয়ে পরে তাকে ঢাকার বার্ন ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাঁচ দিন পর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নীলফামারী সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এদিকে পলাতক স্বামী সাজু খান গোপনে এক বন্ধুর মাধ্যমে তাদের তিন বছরের সন্তান আব্দুর রহমানকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দেন বলে জানা গেছে।

নিহতের মা মাসুদা আক্তার মেয়ে হত্যার বিচার ও অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। তিনি বলেন, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য মেয়ে নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিল। বহুবার আর্থিক সহায়তা দিলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। শেষ পর্যন্ত আগুনে পুড়িয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে