“সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি”-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার রায়েন্দা, খোন্তাকাটা, ধানসাগর ও সাউথখালী (আরকেডিএস) সম্মিলিত বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে “সম্প্রীতির অলিম্পিয়াড”শীর্ষক কুইজ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। শরণখোলা ইয়ুথ পিস অ্যাম্বাসেডর গ্রুপ (ওয়াইপিএজি)-এর উদ্যোগে তরুণদের সামাজিক প্রকল্পের আওতায় এ আয়োজন সম্পন্ন হয়।
১৯ মে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় নবম ও দশম শ্রেণির প্রায় ৪৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। কুইজে শান্তি, সহনশীলতা, সামাজিক সম্প্রীতি ও নাগরিক দায়বদ্ধতাবিষয়ক প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং উত্তর গ্রহণ করা হয় বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) পদ্ধতিতে।
অনুষ্ঠানটি বাস্তবায়ন করে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ-এর “মাল্টি স্টেকহোল্ডার ইনিশিয়েটিভ ফর পিস অ্যান্ড স্ট্যাবিলিটি (এমআইপিএস)”প্রকল্প, যা এফসিডিও-এর অর্থায়নে পরিচালিত। প্রকল্পটির লক্ষ্য তরুণদের মধ্যে নেতৃত্বের বিকাশ, সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মানসিকতা গড়ে তোলা।
প্রতিযোগিতায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য নবম শ্রেণির ফারিয়া মোর্শেদ প্রথম স্থান, সুষ্মিতা কর্মকার দ্বিতীয় স্থান এবং আফরা ইবনাথ তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার প্রদান করা হয়, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা আরও বাড়িয়ে তোলে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পিএফজি অ্যাম্বাসেডর সাবেরা ঝর্ণা বলেন, “একটি সুন্দর সমাজ গঠনের জন্য পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির চর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তরুণদের মাঝে ইতিবাচক চিন্তা, সহনশীলতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা গড়ে তুলতে এ ধরনের কার্যক্রম কার্যকর ভূমিকা পালন করে। শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে এমন উদ্যোগ নিয়মিত হওয়া প্রয়োজন।”
সভাপতির বক্তব্যে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সেলিম বলেন, “একজন শিক্ষার্থীর প্রকৃত বিকাশ কেবল একাডেমিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে মানবিকতা, সহনশীলতা ও নৈতিক মূল্যবোধের চর্চাও জরুরি। সম্প্রীতি ও শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক চিন্তা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।”
তিনি আরও বলেন, “তরুণদের সম্পৃক্ত করে সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করতে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ ও ইয়ুথ পিস অ্যাম্বাসেডর গ্রুপের এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।”
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইয়ুথ পিস অ্যাম্বাসেডর গ্রুপের সদস্য কাইউম হোসেন।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করে।
উল্লেখ্য, “সম্প্রীতির অলিম্পিয়াড”তরুণদের মধ্যে সহনশীলতা, সচেতনতা ও সামাজিক বন্ধন জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃতভাবে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।