স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে গাফিলতি: অনিয়মের প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

এফএনএস (মল্লিক খলিলুর রহমান; অভয়নগর, যশোর) : | প্রকাশ: ২০ মে, ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম
স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে গাফিলতি: অনিয়মের প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

যশোরের অভয়নগরে স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে গাফিলতি ও অনিয়মের প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ সালাউদ্দীন দিপু।‘দুধের প্যাকেটে পোকা ও দুর্গন্ধের অভিযোগ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর এই হুঁশিয়ারি প্রদান করেন তিনি। বুধবার (২০ মে) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার চলিশিয়া ও পায়রা ইউনিয়নের অন্তত ৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওলিউর রহমান উপস্থিত ছিলেন। 

সরেজমিনে স্কুলগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষকের অফিস রুমে অথবা শ্রেণিকক্ষের ভেতরে ফিডিং কর্মসূচির বিস্কুট, বনরুটি, দুধ, ডিম ও কলা রাখা হয়েছে। সিদ্ধ ডিমের পরিবর্তে কাঁচা ডিম রাখা হয়েছে।         

পায়রা ইউনিয়নের ঘোড়াদাইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সমীর রঞ্জন মণ্ডল অভিযোগ করেন, সম্প্রতি তার স্কুলের ফিডিং কর্মসূচির সরবরাহকৃত কলা ও বনরুটির মান ভালো ছিল না। ওজনে কম ছোট সাদা রঙের ডিম দেওয়া হয়েছে। স্কুলের পাশের একটি বাসা থেকে সেই ডিম সেদ্ধ করিয়ে শিশুদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।  

চলিশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত সপ্তাহে তাদের সিদ্ধ ডিম দেওয়া হয়নি। যে ডিম দেওয়া হয়েছিল তা বাড়ি নিয়ে ভেজে খেতে হয়েছে। মাঝে মাঝে দুর্গন্ধযুক্ত দুধ ও নরম কলাও দেওয়া হয় তাদের। কোটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপস্থিত অভিভাবকরা জানান, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষককে ম্যানেজ করে মানহীন খাবার সরবরাহের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে এদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা। 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওলিউর রহমান বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ সালাউদ্দীন দিপুর নের্তৃত্বে অন্তত ৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করা হয়েছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। দুধের প্যাকেটে পোকা ও দুর্গন্ধের অভিযোগের পর উপজেলার ১১৭টি স্কুল থেকে স্কুল ফিডিং কার্যক্রমের প্রতিদিনের প্রতিবেদন সংগ্রহের কাজ শুরু করা হয়েছে।’ 

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ সালাউদ্দীন দিপু বলেন, ‘স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে গাফিলতি ও অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শিক্ষার্থীদের খাবার সরবরাহ ও বিতরণের বিষয়ে শতভাগ স্বচ্ছতা থাকতে হবে। খাবারের গুণগত মান যাচাই করতে বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করা হয়েছে। শিক্ষকদের নির্দেশনামূলক পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অভয়নগরে স্কুল ফিডিং কার্যক্রম পরিদর্শন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’            

এর আগে মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর বুইকরা সিরাজকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একটি লিখিত অভিযোগ করেন। আকিজ ডেইরি লিমিটেডের সরবারকৃত ২০০মি.লি. এর ৩০টি প্যাকেট দুধে পোকা, বিবর্ণ রঙ ও দুর্গন্ধের অভিযোগ করেন তিনি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে