আশাশুনিতে

খেলার মাঠ নিয়ে হাইকোর্টে মামলা গোপন রেখে মামলার তদন্ত

এফএনএস (জি.এম. মুজিবুর রহমান; আশাশুনি, সাতক্ষীরা) : | প্রকাশ: ১১ জুন, ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম
খেলার মাঠ নিয়ে হাইকোর্টে মামলা গোপন রেখে মামলার তদন্ত

আশাশুনির চাপড়ায় খেলার মাঠ নিয়ে হাইকোর্টে চলমান মামলা গোপন রেখে তৃতীয় ব্যক্তি নিন্ম আদালতে সাংবাদিক সহ ৪ জনের বিরুদ্ধে ১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মামলার সরজমিনে তদন্ত করেছেন বুধহাটা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম। গত মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল ১০ টায় স্থানীয় সরকারি রেজিষ্টার্ড সার্ভেয়ার ও বুধহাটা ভূমি অফিসের সহকারি শেখ রুবেল হোসেনকে সাথে নিয়ে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বিবাদপূর্ণ স্থান চাপড়া হিন্দোল যুব সংঘের দখল ও পরিচালনাধীন আমিন উদ্দীন ক্রীড়া উদ্যানে (খেলার মাঠ) উপস্থিত হন। 

মামলার বাদী ও বিবাদী উভয়পক্ষের লোকজন এবং শতাধিক গন্যমান্য ব্যক্তি, চাপড়া হিন্দোল যুব সংঘের কর্মকর্তা, খেলোয়াড়সহ স্থানীয় সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ভূমি কর্মকর্তা তদন্তকার্য পরিচালনা করেন। তিনি সার্ভেয়ার দ্বারা খেলার মাঠ ও ক্লাবের দখলাধীন পুকুর মাপজরিপ করেন এবং বাদী পক্ষ ও উপস্থিত সকল শ্রেণি পেশার লোকের কাছে মাঠ ও পুকুর দখলের বিষয়ে শোনাবোঝা করেন। উপস্থিত সকলে এমনকি বাদী পক্ষের জনৈক নুরুল ইসলামসহ উপস্থিত প্রায় সবাই স্বীকার করেন হিন্দোল যুব সংঘের নিয়ন্ত্রনাধীন আমিন উদ্দীন ক্রীড়া উদ্যান ৮০ এর দশকে মাননীয় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের অনুদানে এম, এ গফ্ফার সরদারের দানকৃত জমি পুকুর কেটে মাঠ ভরাট করা হয়। এই মাঠে হিন্দোল যুব সংঘের খেলোয়াড়রা খেলাধুলা করেই সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে ফুটবল, ক্রিকেট ও ভলিবলের এ ডিবিশনে খেলা করে কখনো চ্যম্পিয়ন কখনো রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। উপস্থিত সকল শ্রেনী পেশার মানুষ, খোলোয়াড় ও উভয় পক্ষের মানুষের নিকট জেনে শুনে এমনকি মাঠের পরিবেশ দেখে ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) সকলের সামনে সাংবাদিকদের জানান, বিবাদপূর্ণ সম্পত্তি খেলার মাঠ এবং এখানে ধান্য চাষ বা কোন প্রকার আবাদ হয়না এটা প্রমানিত এবং সরকারি অর্থায়নে মাটি কেটে পুকুরে পরিনত করা ও মাঠ ভরাট করা হয়েছিল বলেও উভয় পক্ষ স্বীকার করেছেন। তাছাড়া মাঠ এবং পুকুর ক্লাবের দখলাধীন পুকুরে মৎস্য চাষ করা হয়।

তথ্যানুসন্ধানে জানাগেছে, এই জমির এসএ রেকর্ডীয় মালিক উপজেলার শোভনালী ইউপির গোদাড়া গ্রামের শিক্ষক বদর উদ্দীন সরদার। যার এসএ খতিয়ান ৩৩৪, এসএ ১২৯০ দাগে ৪৩ শতক, ১২৯৮ দাগে ০৯ শতক ও ১২৯৮ দাগে ৮১ শতক, মোট ১.৩৩ একর জমি। বদর উদ্দীনের মৃতান্তে তার ওয়ারেশ মোস্তফা কামাল বোখারী, মোস্তফা ফারুক কোরেসী, মোস্তফা ফেরদাউস জাবেরী সহ স্ত্রী ও কন্যা ৭ জন তাদের সতাল মামা চাপড়া গ্রামের মৃত. আমিন উদ্দীন সরদারের একমাত্র পুত্র  এম,এ গফ্ফার সরদারের নামে ৬৫৮৬/৮১ নং নাদাবী বা মুক্তিপত্র রেজিষ্ট্রি করেন। এম, এ গফ্ফার এলাকার উঠতি বয়সি খেলোয়াড় ও চাপড়া হিন্দোল যুব সংঘের উন্নয়নে খেলার তেমন মাঠ না থাকায় ৫২৯৩/৭৭ নং হিন্দোল যুব সংঘের সম্পাদক বরাবর উল্লেখিত ৩ দাগে ১.৩৩ একর জমি নিরুপনপত্র রেজিষ্ট্রি করে দেন। ক্লাবের নামে জমি রেজিষ্ট্রি হওয়ার পর ০৮ নভেম্বর ১৯৭৮ তারিখে ওই জমি দেখিয়ে ক্লাব খুলনা- ১৮৫/৭৮ নং রেজিস্টার্ড করা হয়। তাছাড়া সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের দেয়া অনুদান গমের বিনিময়ে শ্রমিক দিয়ে পুকুর কেটে মাঠ ভরাট করা হয়। সেই থেকে ওই মাঠে খেলাধুলা হয়ে আসছে। বর্তমান হাল রেকর্ড বিআরএস জরিপে সাবেক ১২৯৭, ১২৯৮, ১২৯৯, ১৩০৪/৫ দাগ একত্রিত বিআরএস ২৫৮১ দাগ মাঠ শ্রেনী ও সাবেক ১২৯৭ ও ১২৯০ দাগ একত্রিত বিআরএস ২৫৮২ দাগ পুকুর শ্রেনী সৃষ্টি হয়ে হিন্দোল যুব সংঘ, চাপড়ার পক্ষে সম্পাদক নামে বিআরএস ৭৪১ নং খতিয়ানে রেকর্ড হয়।

ক্লাবের কর্মকর্তারা জানান, উচ্চ আদালতের আদেশ গোপন করে মৃত. জব্বার মোল্লা ও তার স্ত্রী আমেনা খাতুনের ওয়ারেশগন ব্যতিরেখে তৃতীয় ব্যক্তি শিউলি আক্তার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিট্রেড আদালত, সাতক্ষীরায় আশাশুনি প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও সাবেক সভাপতি এস, এম আহসান হাবিব সহ ৪ জনকে বিবাদী করে ১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করে। মামলার নোটিশ প্রদান করেন, এএসআই (বিপি ৮৪০৩০০৫২০২) আনোয়ার হোসেন। যার জবাব দেয়ার ধার্যদিন আগামী ২৯জুলাই। এরই মধ্যে বাদী শিউলি ১৮৮ ধারায় পিটিশান করলে একই দারোগা বিবাদী পক্ষ বা সরজমিনে তদন্ত ছাড়াই বিশেষ সুবিধার বিনিময়ে কোর্টে মিথ্যা ও বানোয়াট মনগড়া তদন্ত রিপোর্ট তৈরী করে কোর্টে জমা দেন। ফলে ১৪৫ ধারার ধার্য দিনের আগেই সাংবাদিক আহসান হাবিব সহ ৪ জনের বিরুদ্ধে কোর্টে নন জিআর মামলা দায়ের হয়েছে। এমতাবস্থায় ভুক্তভেগী বিবাদীপক্ষ, ক্লাবের কর্মকর্তা, সদস্য ও সচেতন এলাকাবাসি দারোগা আনোয়ার হোসেন ও মিথ্যা মামলা দায়েরকারী শিউলী আক্তারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনে প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে