বরিশালে প্রকল্প উদ্বোধনের চার মাসের মধ্যে ধস

এফএনএস (বরিশাল প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ১২ জুন, ২০২৬, ১০:৪২ এএম
বরিশালে প্রকল্প উদ্বোধনের চার মাসের মধ্যে ধস

উদ্বোধনের চার মাসের মধ্যে বরিশালের হিজলা উপজেলার মৌলভীরহাট লঞ্চঘাট প্রকল্পের সড়কে ধস এবং জেটির অনেক অংশ দেবে গেছে। পাইলিং না করা, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারসহ নির্মাণকাজে অনিয়মের কারণে ২৫ লাখ টাকার এই প্রকল্পের এমন বেহাল দশা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসীর।

এতে লঞ্চঘাটে আসা যাত্রীরা বিপাকে পরেছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা সড়ক ও দেবে যাওয়া জেটি পেরিয়ে লঞ্চে উঠছেন তাঁরা। তবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) দাবি, লঞ্চঘাটে নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় সড়ক ও জেটি ধসে পরেছে। বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দফায় জেটিঘাট ও লঞ্চঘাটের সড়ক ভেঙে যাওয়ার পরে সংস্কারের জন্য দ্বিতীয় দফায় ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ঠিকাদারির কাজ করেছেন নজরুল ইসলাম রাজু ঢালী। কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে নতুন সড়ক ও জেটি নির্মাণ করা হয়।

গত ৩০ জানুয়ারি তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন লঞ্চঘাট উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর গত এপ্রিল মাসে জেটির আংশিক দেবে যায়। কয়েকদিন আগে সড়কের একটা বড় অংশ ধসে নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে লঞ্চঘাটের সম্পূর্ণ সড়ক ও জেটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নতুন বরাদ্দের সংস্কারকাজে অনিয়ম হয়েছে। সড়ক নির্মাণের সময় নদীতে ভালোভাবে পাইলিং করা হয়নি। তড়িঘড়ি আর জোড়াতালি দিয়ে কাজ করায় সড়ক ও জেটি ধসে পরছে।

সরেজমিনে হিজলা উপজেলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের মৌলভীরহাট লঞ্চঘাটে দেখা যায়, সড়কের একাংশ নদীতে ধসে পড়েছে। পন্টুনে ওঠার জেটির একপাশ দেবে গেছে। সাধারণ মানুষ সেই জেটি দিয়ে পন্টুনে উঠছেন। অনেকে নৌকার সহায়তা নিচ্ছেন। মৌলভীর হাট এলাকার বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রথমবার ঘাটটি ধসে যাওয়ার পর জনগণের দুর্ভোগ ও নদী পারাপারের গুরুত্ব বিবেচনা করে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। নতুন বরাদ্দের কাজ আগের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রাজু ঢালীকে দেওয়া হয় এবং তিনি আগের মতো চরম গাফিলতি ও দায়সারা কাজ করেন। ফলে উদ্বোধনের চার মাসেই সড়ক ও জেটি ভেঙে পরেছে। অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদার রাজু ঢালী বলেন, প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় সরকারি শিডিউল অনুযায়ী কাজ করা হয়েছে। বরিশাল বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমজাদ হোসেন বলেন, নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় মৌলভীর হাটে লঞ্চঘাটের জেটি ও সড়ক ধসে পরেছে। খুব শীঘ্রই ঘাটটি পরিদর্শন করে নতুনভাবে সংস্কার করা হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে