কলারোয়া পৌরসভা যেন নামসর্বস্ব

পশুহাট মোড়ে ২বছর ধরে মরণফাঁদে লাখো মানুষ

এফএনএস (জুলফিকার আলী; কলারোয়া, সাতক্ষীরা) :
| আপডেট: ১২ জুন, ২০২৬, ০২:১৯ পিএম | প্রকাশ: ১২ জুন, ২০২৬, ০২:১৯ পিএম
পশুহাট মোড়ে ২বছর ধরে মরণফাঁদে লাখো মানুষ

পৌরসভা আছে ঠিকই, কিন্তু জনগণের ভোগান্তি লাঘবে কিংবা নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের কোনো তৎপরতা নেই। সাতক্ষীরার কলারোয়া পৌরসভার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রধান সড়ক দীর্ঘ দুই বছর ধরে চরম সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বিশেষ করে কলারোয়া পশুহাট মোড়ের এই স্থানটির পিচ-খোয়া পুরোপুরি উঠে গিয়ে বিশাল ও গভীর খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে, যা বর্তমানে নোংরা পানির এক স্থায়ী ‘কৃত্রিম পুকুরে’ এবং পথচারীদের জন্য এক ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ দুই বছর ধরে এই নরকযন্ত্রণা সহ্য করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ। সামান্য বৃষ্টি হোক বা না হোক, ড্রেনেজ ব্যবস্থার চরম ত্রুটি ও রাস্তার মাঝখানে বিশাল গর্তের কারণে এখানে বারো মাসই নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি জমে থাকে। এই জলমগ্ন মরণফাঁদে প্রতিদিন প্রতিনিয়ত পড়ে যাচ্ছে ভ্যান, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল। প্রায় প্রতিদিনই এখানে উল্টে যাচ্ছে পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহন, ঘটছে ছোট-বড় নানা দুর্ঘটনা। কলারোয়া পশুহাট মোড়টি এখন সাধারণ পথচারী ও চালকদের জন্য এক মূর্তিমান আতঙ্কের নাম। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, কলারোয়া পশুহাট মোড়টি অত্র অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অর্থনৈতিক কেন্দ্র। এখানে প্রতি সপ্তাহে বিশাল পশুর হাট বসে এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত ব্যবসায়ী ও খামারিরা আসেন। কিন্তু রাস্তার এই মরণফাঁদের কারণে কোনো যানবাহনে করে পশু নিয়ে ওই স্থানটুকু পার হওয়া সম্ভব হয় না। অনেক সময় পশু বোঝাই ভ্যান বা গাড়ি গর্তে উল্টে গিয়ে পশু মারাত্মক জখম হয়। ফলে ব্যবসায়ী ও খামারিদের চরম লোকসান ও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে স্থানীয় অর্থনীতিতে। রাস্তার এই বেহাল দশার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে স্থানীয় বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে পড়ুয়া কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। এই নোংরা পানি ও কাদার ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় প্রতিনিয়ত দ্রুতগামী যানবাহনের চাকায় ময়লা পানি ছিটকে তাদের স্কুল ইউনিফর্ম, বই-খাতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীদের পরিচ্ছন্ন পোশাক কাদায় একাকার হওয়ার ঘটনা ঘটছে। বাধ্য হয়ে অনেক শিক্ষার্থীকে জুতো-মোজা হাতে নিয়ে নোংরা কাদা-পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক ও দুঃখজনক। স্থানীয় ব্যবসায়ী, চালক ও পথচারীদের অভিযোগ-পৌর কর্তৃপক্ষ জনগণের এই চরম অসুবিধা ও নিত্যদিনের ভোগান্তি দেখেও না দেখার ভান করে অন্ধ সেজে আছে। মাসের পর মাস পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঠিকই জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতন তুলছেন, কিন্তু এই জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তার বেহাল দশা ও মরণফাঁদ দূর করার কোনো উদ্যোগ নেই। ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকাবাসী বলেন, কলারোয়া পৌরসভা এখন জনগণের সেবা দেওয়ার চেয়ে কেবলই এক ‘নামসর্বস্ব’ সংস্থায় পরিণত হয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষের এমন চরম উদাসীনতা ও দায়িত্বহীনতায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। এই দীর্ঘস্থায়ী ভোগান্তি ও মরণফাঁদ থেকে মুক্তি পেতে এবং কলারোয়া পশুহাট মোড়ের এই বিপজ্জনক স্থানটি দ্রুত জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের জন্য কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরিফুল ইসলামের সরাসরি হস্তক্ষেপ ও সুদৃষ্টি কামনা করেন ভুক্তভোগী পথচারী, ব্যবসায়ী এবং সচেতন এলাকাবাসী। এ বিষয়ে শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি অত্যন্ত আন্তরিকতা প্রকাশ করেন। তিনি পথচারী ও ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে বলেন, "জনসাধারণের ভোগান্তির বিষয়টি আমি জেনেছি। জনস্বার্থে ওই বিপজ্জনক স্থানটি দ্রুত সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।" ইউএনও’র এমন আশ্বাসে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন কলারোয়ার ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে