চলনবিলের জলপথে সৌরশক্তিচালিত ভাসমান বিদ্যালয় উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার স্বীকৃতি হিসেবে সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থা ইউনেস্কো কনফুসিয়াস সাক্ষরতা পুরস্কার-২০২৫ অর্জন করেছে। এটি শুধু একটি সংস্থার অর্জন নয়, বরং বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষা বিস্তারের সংগ্রামের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। এই উদ্যোগের বিশেষত্ব হলো স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উদ্ভাবিত সমাধান। বর্ষাকালে যখন নদী-খাল উপচে পড়ে, তখন শিশুদের বিদ্যালয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। সেই পরিস্থিতিতে নৌকাভিত্তিক শ্রেণিকক্ষ, গ্রন্থাগার ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থাসহ আধুনিক সুবিধা যুক্ত এই ভাসমান বিদ্যালয়গুলো শুধু শিক্ষায় অন্তর্ভুক্তিই বাড়াচ্ছে না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও সক্ষম ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ যথার্থই বলেছেন, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্গম এলাকায় শিক্ষা পৌঁছে দিতে স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উদ্যোগগুলো বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, শিক্ষা কেবল পড়তে-লিখতে শেখার বিষয় নয়; এটি মানুষকে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, জীবনের সুযোগ কাজে লাগানো এবং সমাজে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের সক্ষমতা দেয়। সিধুলাইয়ের নির্বাহী পরিচালক স্থপতি মোহাম্মদ রেজোয়ানও উল্লেখ করেছেন, টেকসই সমাধান প্রায়শই সেই সমপ্রদায়ের মধ্য থেকেই আসে, যারা প্রতিদিন সমস্যার মুখোমুখি হয়। এই পুরস্কার তাই স্থানীয় মানুষের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও অংশগ্রহণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার স্বীকৃতি। আমাদের মতে, ভাসমান বিদ্যালয় প্রকল্প বাংলাদেশের শিক্ষা বিস্তারের ইতিহাসে এক অনন্য উদাহরণ। এটি প্রমাণ করে, স্থানীয় উদ্ভাবন ও সমপ্রদায়ের অংশগ্রহণের মাধ্যমে টেকসই সমাধান সম্ভব। সরকার ও নীতিনির্ধারকদের উচিত হবে এই উদ্যোগকে আরও সমপ্রসারণ করা, যাতে দেশের প্রতিটি দুর্গম অঞ্চলের শিশু শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না হয়। আমাদের প্রত্যাশা, সিধুলাইয়ের এই স্বীকৃতি বাংলাদেশের শিক্ষা আন্দোলনে নতুন অনুপ্রেরণা যোগাবে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার পথে আরও উদ্ভাবনী উদ্যোগকে উৎসাহিত করবে।