হাওর বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন ও ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি

এফএনএস (একে কুদরত পাশা; দিরাই, সুনামগঞ্জ) :
| আপডেট: ১৩ জুন, ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম | প্রকাশ: ১৩ জুন, ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম
হাওর বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন ও ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি

হাওর অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, কৃষি ও মৎস্যসম্পদ রক্ষা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে পৃথক হাওর বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন এবং জাতীয় বাজেটে ৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সুনামগঞ্জ জেলা কমিটি। শনিবার বিকেলে জামালগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ‘হাওরের মানুষের বাজেট ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এ দাবি জানানো হয়। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সুনামগঞ্জ জেলা কমিটি ও জামালগঞ্জ উপজেলা কমিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সভায় হাওর উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে ৯ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।

সুজন সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি নূরুল হক আফিন্দীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ফজলুল করিম সাইদ ও জামালগঞ্জ উপজেলা কমিটির সভাপতি লুৎফুর রহমানের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কারুল। প্রধান অতিথির বক্তব্যে কামরুজ্জামান কারুল বলেন, “হাওরবাসীর দাবিগুলোর সঙ্গে আমি একমত। এগুলো বাস্তবায়নে জাতীয় সংসদে আমি আপনাদের পক্ষে কথা বলব এবং সংশ্লিষ্ট মহলে বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরব।”

সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান, লেখক-কলামিস্ট সুখেন্দু সেন হারু, হাওর গবেষক সালেহীন চৌধুরী শুভ, মোতালেব খান, সফিকুর রহমান, ওবায়দুল হক মিলন, মছিহুর রহমান রাসেল, তৃষ্ণা আক্তার রোসনা, রীনা আক্তার, প্রতীমা রানী, জুলপিকার চৌধুরী রানা, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, সুনামগঞ্জ বাংলাদেশের একটি অনন্য ভূপ্রকৃতির জেলা। হাওর, নদী, বিল, জলমহাল, মাছ, ধান, পাখি ও মানুষকে ঘিরে গড়ে উঠেছে এ অঞ্চলের স্বতন্ত্র জলজ সভ্যতা। অথচ নদী ভরাট, অপরিকল্পিত বাঁধ, জলাবদ্ধতা, দুর্নীতি, জীববৈচিত্র্যের ক্ষয়, কৃষকের অনিশ্চয়তা, বজ্রপাতে প্রাণহানি এবং জেলেদের অধিকারহীনতাসহ নানা সমস্যায় হাওরাঞ্চল আজ সংকটাপন্ন। সভায় উত্থাপিত ৯ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে-সুনামগঞ্জ জেলার সব নদী নিয়মিত খননের জন্য পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ, হাওরের ফসল রক্ষায় বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণা পরিচালনা, জলমহাল ইজারা নীতিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং প্রকৃত জেলেদের ভাসান পানিতে মাছ ধরার অধিকার নিশ্চিত করা। এছাড়া আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত টাঙ্গুয়ার হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিশেষ সংরক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ, স্বল্পমেয়াদি ও জলবায়ু সহনশীল ধানের জাত উদ্ভাবনে গবেষণা, পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তি উন্নয়নে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, হাওর অঞ্চলের শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষ বাজেট বরাদ্দ এবং সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সচেতনতামূলক কর্মসূচির জন্য পৃথক বরাদ্দের দাবি জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, হাওর অঞ্চলের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে বছরের দীর্ঘ সময় অনেক এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকে। ফলে শিক্ষার্থী ও রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তাই বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক সংকট নিরসন, বিশেষ বৃত্তি, আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নৌযানভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আধুনিকায়ন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ, নৌকা অ্যাম্বুলেন্স চালু এবং দুর্গম এলাকায় ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের জন্য বিশেষ বরাদ্দ প্রয়োজন।

তারা আরও বলেন, নদীই হাওরের প্রাণ। নদী ভরাট হলে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়, বন্যা ও জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি পায় এবং কৃষি ও মৎস্যসম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একইভাবে জীববৈচিত্র্য রক্ষা, কৃষি গবেষণা, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া হাওরের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। বক্তারা হাওরপাড়ের মানুষের পক্ষ থেকে পৃথক হাওর বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন এবং হাওর অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন ও সমস্যা সমাধানে জাতীয় বাজেটে ৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার জোর দাবি জানান।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে