প্রথমে চাচা রুবেল ও ভাতিজা রাব্বি আকন মিলে পিকআপ চাঁপা দিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করে যুবক আরিফ আকনকে (৩৫)। এ সংক্রান্ত একটি রেকর্ড শনিবার (১৩ জুন) দিবাগত রাতে ভাইরাল হওয়ার পর পুরো এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পরেছে। পরবর্তীতে সেই পরিকল্পনায় আরিফকে সুবিধামতো স্থানে না পেয়ে স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তির ইন্ধনে হত্যার উদ্দেশ্যে লোহার শাবল দিয়ে মাথায় আঘাত করে গুরুত্বর জখম করা হয়। পরবর্তীতে মৃত ভেবে রাস্তার ওপর ফেলে রাখা হয় আরিফ আকনকে। নৃশংস এ হামলার ঘটনাটি ঘটেছে বরিশালের গৌরনদী পৌর এলাকার ৮নং ওয়ার্ডের গেরাকুল গ্রামে। বর্তমানে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জালড়া যুবক আরিফ আকন ওই গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলাম মেছের আকনের একমাত্র ছেলে। গত কয়েকমাস পূর্বে মোটরসাইকেল দূর্ঘটনায় যুবক আরিফ আকনের বাম হাত ভেঙ্গে প্রায় অকেজো হয়ে যায়। বর্তমানে হামলায় তার মাথায় গুরুত্বর জখম হওয়ায় চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন তার অবস্থা এখনও আশঙ্কামুক্ত নয়। অপরদিকে হামলাকারী রুবেল আকন একই এলাকার আনোয়ার আকনের ছেলে। সম্প্রতি সে (রুবেল) গ্রামের বাড়িতে এসে বসবাস শুরু করে। এরপূর্বে ঢাকায় অবস্থানকালে সে দুর্র্ধষ ছিনতাইকারী ছিলো। অপর হামলাকারী রাব্বি আকন রুবেলের চাচাতো ভাই বাদল আকনের তালাকপ্রাপ্ত প্রথম স্ত্রীর ছেলে। ঢাকায় অবস্থানকালে রাব্বীর বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধের ঘটনায় মামলা চলমান রয়েছে। ওইসব মামলায় সে দীর্ঘদিন কারাভোগ করে জামিনে বের হয়ে গ্রামের বাড়িতে এসে বসবাস শুরু করেছে। রুবেল ও রাব্বী বর্তমানে পেশায় আলাদাভাবে ভাড়ার পিকআপ চালক। রুবেল ও রাব্বির পারিবারিক সদস্যদের কথোপকথনের ভাইরাল হওয়া রেকর্ডিংয়ে এসব তথ্য জানা গেছে। রবিবার (১৪ জুন) দুপুরে হামলায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জালড়া যুবক আরিফের বড় বোন তিরা মনি বেগম বলেন, তার বাবার রেখে যাওয়া সহায় সম্পত্তির ওপর স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তির দীর্ঘদিন থেকে লোলুপ দৃষ্টি পরে। যেকারণে ওই প্রভাবশালীরা তার (তিরা মনি) একমাত্র ভাই যুবক আরিফ আকনকে দীর্ঘদিন থেকে বিভিন্নধরনের হয়রানী করে আসছে। সর্বশেষ তাকে (আরিফ) হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। যে কাজে ওই প্রভাবশালীরা ব্যবহার করে দুর্র্ধষ রুবেল ও রাব্বিকে।
তিরা মনি বেগম আরও বলেন, ঘটনারদিন শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে তার ভাই আরিফ আকন ঢাকা থেকে বাড়িতে ফেরেন। ওইদিন সন্ধ্যার আগমুহুর্তে পরিকল্পিতভাবে রুবেল ও রাব্বিসহ তাদের আরো কয়েকজন সহযোগিরা বাড়ির পাশে একাকি পেয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আরিফের ওপর হামলা চালায়। তারা লোহার শাবল দিয়ে আরিফের মাথাসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে উপর্যুপরি আঘাত করে মারাত্মক জখম করে। একপর্যায়ে মৃত ভেবে আরিফকে রাস্তার ওপর ফেলে রেখে হামলাকারীরা বীরদর্পে চলে যায়।
খবর পেয়ে আরিফের বিধবা মা মরিয়ম বেগমসহ প্রতিবেশীরা মুমূর্ষ অবস্থায় তাকে (আরিফ) উদ্ধার করে প্রথমে গৌরনদী উপজেলা হাসপাতালে ও পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাতে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তিরা মনি বেগম আরও বলেন, ঘটনারদিন ১২ জুন দুপুরে স্থানীয় একটি দোকানের সামনে বসে রুবেল প্রকাশ্যে আরিফকে হত্যার হুমকি প্রদর্শন করে। ওইসময় আরিফ ঢাকায় ছিলো। দুপুরে হুমকির পর বিকেলে আরিফ বাড়িতে ফেরার পর তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে নৃশংস হামলা চালানো হয়।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রুবেল ও রাব্বি আকন এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করায় তাদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. তারিক হাসান রাসেল জানিয়েছেন, এ ঘটনায় শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় আহত যুবক আরিফ আকনের বৃদ্ধা মা মরিয়ম বেগম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পরবর্তীতে ওইদিন রাতেই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্তে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন। যেকারণে থানায় দায়ের করা অভিযোগটি এজাহারভূক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান শুরু করেছে বলেও তিনি (ওসি) উল্লেখ করেন।