পাবনার সাঁথিয়ায় এক নিঃসন্তান ব্যাক্তির রেখে যাওয়া সম্পত্তির দখল পাওয়ার বিরোধকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছে দুই পক্ষ।এতে দুই পক্ষই তাদের নিজেদের সম্পত্তি দাবি করে পরস্পরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করেছেন।শুক্রবার(১৯জুন)বিকেলে সাঁথিয়া প্রেস ক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা জানান,সাঁথিয়া পৌরসভার দক্ষিণ বোয়াইলমারী মহল্লার বাসিন্দা আনসার আলীর মৃত্যুর পর তার বসতবাড়ির মালিকানা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয় তাঁর স্বজনদের মধ্যে।আনসার আলীর কোনো সন্তান বা সরাসরি উত্তরাধিকারী না থাকায় তাঁর আত্মীয়স্বজনদের দাবি করা ওয়ারিশদের মধ্যে এই বিরোধ এখন চরমে পৌঁছেছে। প্রথম পক্ষ মৃত আনসার আলীর স্ত্রী রওশনারা খাতুন ও তাঁর পালিত পুত্র হাসমত আলী গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮জুন)রাতে প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তারা দাবি করেন,আমরা বৈধ ওয়ারিশ এবং দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তির ভোগদখলে আছেন। তারা অভিযোগ করেন,অপর পক্ষ মৃত আনসার আলীর ভাতিজা দেলোয়ার মোল্লা গং জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করছে এবং তাদের হয়রানি করছে।এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন হাসমত আলীর প্রতিবেশি আব্দুল মতিন।
অন্যদিকে শুক্রবার বিকেলে অপর পক্ষ দেলোয়ার মোল্লা গং পৃথক সংবাদ সম্মেলনে প্রথম পক্ষ রওশনারা খাতুন ও হাসমত আলীর অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন,প্রকৃত ওয়ারিশ আমরাই।কাগজপত্র অনুযায়ী সম্পত্তির অধিকার আমাদের এবং প্রতিপক্ষ ভুয়া তথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে।দেলোয়ার মোল্লা বলেন,মৃত আনসার আলীর স্ত্রী রওশনারা খাতুনকে সম্পত্তির প্রাপ্য অংশ তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।তারপরেও তারা মানুষকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।এ বিষয়ে স্থানীয় পৌর প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৃত আনছার আলীর বৈমাত্রেয় ভাই বোন ও তাদের সন্তানাদির অর্থাৎ দেলোয়ার মোল্লা গংদের ওয়ারিশান সনদ প্রদান করেছেন।সে ওয়ারিশান সনদ অনুযায়ী দেলোয়ার মোল্লা গং তারা সম্পত্তির আসল হকদার দাবি করেছেন।
শুক্রবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দেলোয়ার মোল্ল্লা,মেহেদী হাসান,আসলাম উদ্দিন খান,নাছির উদ্দিন আব্দুল মজিদ প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে দুই পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানের পক্ষে বিভিন্ন দলিলপত্র উপস্থাপন করেন এবং প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার দাবি করেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং বিষয়টির দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।