৮৬ হাজার পল্লীর উন্নয়ন হলেই বদলে যাবে বাংলাদেশের অর্থনীতি: বিভাগীয় কমিশনার

এফএনএস (মমিনুল ইসলাম রিপন; রংপুর) :
| আপডেট: ৬ জুলাই, ২০২৬, ০৪:০১ পিএম | প্রকাশ: ৬ জুলাই, ২০২৬, ০৪:০১ পিএম
৮৬ হাজার পল্লীর উন্নয়ন হলেই বদলে যাবে বাংলাদেশের অর্থনীতি: বিভাগীয় কমিশনার

উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ' প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রংপুরে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গ্রামীণ অবকাঠামো ও সেবার উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে দারিদ্র্য হ্রাস, কৃষি, সমবায় ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে উৎসাহ প্রদান, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই পল্লী উন্নয়ন বাস্তবায়ন, গ্রামীণ জনগণের ক্ষমতায়ন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব জোরদার এবং পল্লী উন্নয়নে অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দিবসটি পালন করা হয়।

সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ১০টায় রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে গিয়ে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি), রংপুর। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠ করা হয়। পরে বিআরডিবি, রংপুরের উপপরিচালক নুরেলা আক্তার স্বাগত বক্তব্য দেন। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমীন এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সানজিদা ইসলাম উর্মি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রংপুর বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম, এনডিসি বলেন, বিআরডিবি এখনও হাটি হাটি পা পা করে এগিয়ে চলেছে। এ প্রতিষ্ঠান থেকেই পরবর্তীকালে আরও অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্ম হয়েছে। অথচ সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি এখনও প্রত্যাশিত অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি। গ্রামবাংলার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিআরডিবিসহ এ ধরনের প্রতিষ্ঠান নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তাই এসব প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা ও সহযোগিতা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, দেশের ৮৬ হাজার পল্লীর উন্নয়ন ঘটলে সারা বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটবে। গ্রামীণ মানুষের জীবনমানের উন্নতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জিত হবে এবং তারা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবেন। এ লক্ষ্য অর্জনে পল্লী উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বিআরডিবির ঋণ গ্রহণকারীদের উৎপাদনমুখী ও আয়বর্ধক খাতে বিনিয়োগ করে নিয়মিত পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঋণকে সম্পদে পরিণত করা সম্ভব। তিনি বিআরডিবির বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের প্রশংসা করে ভবিষ্যতেও প্রতিষ্ঠানটির সফলতা কামনা করেন।


সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমীন বলেন, সরকারের টেকসই পল্লী উন্নয়নের লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিআরডিবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি, সমবায়ভিত্তিক উন্নয়ন, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরিতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে হবে। প্রশাসন ও বিআরডিবির সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারি উন্নয়ন কর্মসূচির সুফল প্রান্তিক জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ-উত্তর) মো. মাহফুজুর রহমান, বিআরডিবির বিভাগীয় কার্যালয়ের যুগ্ম পরিচালক মো. সহিদুর রহমান সুমন। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রমিজ আলম । আলোচনা সভায় বিআরডিবির বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম এবং পল্লী উন্নয়ন ও গ্রামীণ অবকাঠামো বিষয়ক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। একই সঙ্গে বিআরডিবির বিভিন্ন কর্মসূচির সুফলভোগীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানান, প্রতিষ্ঠানটির সহায়তায় তারা আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিসহ বিআরডিবির কর্মকর্তা-কর্মচারী, সমবায় সংগঠনের সদস্য, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। অনুষ্ঠান শেষে সুফলভোগীদের মাঝে ১৭ লক্ষ ৮০ হাজার টাকার ঋণের চেক বিতরণ, গাছের চারা ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে