মৌসুম কালে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুরে এবার পাটের আবাদে ধস নেমেছে। ফলে রাজিবপুরের কৃষকদের পাট চাষে লোকসান গুনতে হচ্ছে। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে পাট চাষীদের এহেন অবস্থা। রাজিবপুরের পাট চাষীদের নিকট তথ্য নিয়ে জানাগেছে,পাট চাষ ও চাষীদের লোকসানের কথা।
মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের পাটচাষী আজিজুর রহমান জানান, এবার তিনি ৫ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলেন। মৌসুম কালে প্রথম খরা থাকার কারণে জমিতে রস না থাকায় পাট বীজ বুনতে দেরি হয়। বৃষ্টির পর জমিতে রস আসার পর পাট চাষ করি। কিন্তু পাট বীজ বোনার ৩/৪ দিন পর ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে পাটের ক্ষেত পানিতে ডুবে যায়। মাত্র ১বিঘা জমির পাট টিকে আছে। কোদাল কাটি ইউনিয়নের পাটচাষি আমিনুর রহমান জানান , তিনি ২ একর জমিতে পাট চাষ করেছিলেন। পাটের চারা যখন ১ ফুট তখন থেকেই পাট ক্ষেতে পানি জমে।ডুবে ছিল ১সপ্তাহ । এতে পাটগাছে বালা (আগাছা) জমে অধিকাংশ পাট মরে গেছে। এতে আবাদের অর্ধেক পাট নষ্ট হয়ে গেছে। আবাদে লোকসান গুনতে হবে। রাজিবপুর সদর ইউনিয়নের পাটচাষি ফরিদ উদ্দিন বলেন, পাটের আবাদে তিনি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। ১০ বিঘা জমির পাটের মধ্যে তার ৩বিঘার পাট টিকেছে। তাও আবার মাঝে মধ্যে গাছ নেই। এ অবস্থা উপজেলা জুড়ে। চর রাজিবপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবছর উপজেলায় দেশি ও মেসতা মিলে ১৮শ ৮৪ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। গড়ে ৫০ভাগ জমির পাটের আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চর রাজিবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ তৌফিক আল জোবায়ের জানান, শুরুতে ভারি বর্ষণ পরে বন্যার কারণে রাজিবপুরের অধিকাংশ পাটের আবাদে ধস নেমেছে। সার্বিক ভাবে রাজিবপুরের কৃষকদের পাট চাষে লোকসান গুনতে হবে।