কাপাসিয়ায়

আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় মাদক নিয়ন্ত্রণে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান

এফ এম কামাল হোসেন; কাপাসিয়া, গাজীপুর | প্রকাশ: ১০ আগস্ট, ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম
আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় মাদক নিয়ন্ত্রণে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১০ আগস্ট সোমবার সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত সভায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ দমনে প্রশাসন এবং জনগণের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। ‎সভায় প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসনের সংসদ সদস্য মু. সালাহউদ্দিন আইউবী। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হাফিজুল হক। ‎সভায় অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নাহিদুল হক, কাপাসিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন আহম্মদ, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা, বিএনপি নেতা এম এ হাসেম চৌধুরী, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ডাঃ এ কে এম আতিকুর রহমান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল আরিফ সরকার, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রমিতা ইসলাম, বিআরডিবি কর্মকর্তা দিলারা আক্তার মনি ফকির, কাপাসিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মাহফুজুর রহমান, কাপাসিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির আহ্বায়ক আফজাল হোসাইন, কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য এফ এম কামাল, সুপ্রিম কোর্টের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোঃ ইকবাল হোসেন শেখ, দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম শাহীন, মডেল মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা মাহমুদুল হাসান মারুফ, মাওলানা মোঃ শামসুল হকসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং এলাকার গণ্যমান্য ও সচেতন নাগরিকরা। ‎সভায় উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে সংসদ সদস্য মু. সালাহউদ্দিন আইউবী বলেন, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর নেতিবাচক প্রভাব বিশেষ করে তরুণ সমাজের ওপর পড়ছে। মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, অভিভাবক এবং সাধারণ জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলে সমাজে সংঘটিত বিভিন্ন ধরনের অপরাধও অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। পুলিশ ও প্রশাসনের কার্যক্রমে জনগণকে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করতে হবে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবী উভয়ের বিরুদ্ধেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি। উপজেলার প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানান। তার মতে, সময়মতো মাদকের বিস্তার রোধ করা না গেলে সমাজে অপরাধ ও অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। ‎সভায় উপস্থিত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বক্তব্যের প্রশংসা করে সংসদ সদস্য বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় জনগণের মতামত ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। ‎অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাফিজুল হক বলেন, কোনো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে শুধু স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তাই বিঘ্নিত হয় না, দেশের সামগ্রিক ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। উপজেলা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা সীমিতসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীর একক প্রচেষ্টায় পুরো এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা কঠিন। এ কাজে রাজনৈতিক দল, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন, শিক্ষক, অভিভাবক ও সাধারণ জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। ‎আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানান ইউএনও। অপরাধের বিষয়ে কেউ তথ্য পেলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর পাশাপাশি অপরাধ প্রতিরোধে সামাজিকভাবে সচেতনতা তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। ‎সভায় মাদক, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি উপজেলার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। ‎সভায় বক্তারা কাপাসিয়ার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা বলেন, সম্প্রতি উপজেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শারমিন সুলতানার বাড়িতে রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফরিদুল আলম বুলুর বাড়িতে রাতের আঁধারে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করেছে, গত রোববার গভীর রাতে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সিরাজুল ইসলামের বাড়িতে আগুন দিয়ে সবকিছু পুড়ে ছাই করে দিয়েছে। এসব পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ঘটনা। সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য পতিত স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর দোসররা এসব ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটাচ্ছে। অভিযোগ করে তিনি বলেন, পুলিশ এখনো পর্যন্ত কোনো ঘটনার কারণ উদঘাটন করতে পারেনি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসব ঘটনায় জড়িত দোষীদের খোঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থার দাবি জানান তিনি।
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে