মাত্র ৭৩ দিনে সম্পূর্ণ পবিত্র কোরআন মুখস্থ করে হাফেজে কুরআন হওয়ার গৌরব অর্জনের পাশাপাশি বিস্ময় সৃষ্টি করেছে ১৩ বছরের শিশু মোঃ মুছাইব হোসাইন। অল্প সময়ের মধ্যে ৩০ পারা কোরআন মুখস্থ শেষে ছবক দিয়ে পরিবার, এলাকাবাসী, আলেম সমাজ ও শিক্ষকদের অবাক করে দিয়েছে মেধাবী মুছাইব।
মুছাইব হোসাইন বরিশালের গৌরনদী উপজেলা গেট সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত পবিত্র কোরআন শিক্ষার নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান ঐতিহ্যবাহী হযরত উবাই ইবনে কা'ব রাঃ হিফজুল কুরআন মাদ্রাসার ছাত্র। তার এমন কৃতিত্বে বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছে আলেম সমাজের মধ্যে। মেধাবী মুছাইব হোসাইন আগৈলঝাড়া উপজেলা মডেল মসজিদের খাদেম ফুলশ্রী গ্রামের বাসিন্দা মো. মিজানুর রহমান বেপারীর ছোট ছেলে।
এমনই বিস্ময়কর ঘটনায় মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বাদ মাগরিব মাদ্রাসার মিলনায়তনে মেধাবী ছাত্র মুছাইব হোসাইনকে সংবর্ধনা দিয়ে দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিলো। একইদিন ওই মাদ্রাসার আরো নয়জন শিশু ছাত্র নাজেরা শেষ করে হেফজ ক্লাশের ছবক নিয়েছে।
মেধাবী ছাত্র মুছাইবের বাবা মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, শিশু বেলা থেকেই মুছাইব একজন নম্র-ভদ্র ও মেধাবী ছাত্র ছিলো। প্রথমে মুছাইব প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেনী পাশ করেছে। ওইসময় স্থানীয় ইসলামীক মক্তবে (প্রাথমিক ধর্মীয় শিক্ষা কেন্দ্র) পড়াশুনার সময় শিক্ষক (ওস্তাদজি) মুছাইবের তেলাওয়াত ও মেধার প্রশংসা করেন। পরবর্তীতে ওস্তাদজির পরামর্শে শিশু মুছাইবকে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে পবিত্র কোরআন শিক্ষার নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান গৌরনদীর হযরত উবাই ইবনে কা'ব রাঃ হিফজুল কুরআন মাদ্রাসায় নাজেরা বিভাগে ভর্তি করা হয়।
মাদ্রাসার পরিচালক শিক্ষা হাফেজ মো. আবরারুল হক জানিয়েছেন, নাজেরা বিভাগ শেষে মাত্র ৭৩ দিন পূর্বে মুছাইবকে হেফজ বিভাগে ভর্তি করা হয়। আর এরইমধ্যে সে (মুছাইব) পবিত্র কোরআন মুখস্থ শেষে ছবক দিয়ে হাফেজ হওয়ার অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, সাধারণ নিয়মে একজন মানুষের পক্ষে এতো অল্প সময়ে পুরো কোরআন মুখস্থ করা প্রায় অসম্ভব। তবে মহান আল্লাহতায়ালার বিশেষ রহমত এবং তীব্র মেধার কারণে মুছাইব হোসাইন বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
বিস্ময় বালক মুছাইব হোসাইন জানিয়েছেন, মহান আল্লাহতায়ালার অশেষ মেহেরবানি ও সকলের দোয়ায় আমি ৭৩ দিনে কোরআনের হাফেজ হয়েছি। ভবিষ্যতে আমি বড় আলেম হতে চাই। এ জন্য সবাই আমাকে দোয়া করবেন।
মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ ক্বারী একরামুল হক জানিয়েছেন, মহান আল্লাহতায়ালার বিশেষ উপহার, অসাধারণ স্মরণশক্তি এবং কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি একদিনে এক পারাও মুখস্থ করেছে মেধাবী ছাত্র মুছাইব হোসাইন। তিনি আরও বলেছেন, বিভিন্ন সময় পত্রিকার সংবাদে শুনেছি অনেক ছাত্ররা দুই মাসে, এক বছরে, নয় মাসে, ছয় মাসে হাফেজ হয়। বাস্তবতায় আসলে আমার সৌভাগ্য হয়নি এমন কোন ছাত্রকে পড়ানোর। কিন্তু আল্লাহতায়ালার কাছে এমন একটি চাওয়া ছিলো। অবশেষে মহান আল্লাহতায়ালা মুছাইবের মাধ্যমে আমার মনে আশা পূরন করেছেন।
মুহতামিম হাফেজ ক্বারী একরামুল হক বলেন, অন্য ছাত্ররা বিকেলে খেলাধুলা করার সময় মাদ্রাসার এক কোনে দেয়ালের দিকে ফিরে মুছাইব কোরান শরীফ পড়তে থাকে। এভাবে করে রাতে অন্য ছাত্ররা যখন ঘুমায়, সে সময় মুছাইব কোরান তেলাওয়াত করতে থাকে। নিজ আগ্রহে, ও মহান আল্লাহতায়ালার রহমতে মাত্র ২ মাস ১৩ দিনের মধ্যে মুছাইব পুরো কোরআন শরীফ মুখস্থ করে। এমনও দিনও গেছে, মুছাইব একদিনে এক পারাও মুখস্থ করেছে। এটা আল্লাহতায়ালার বিশেষ রহমত। তিনি মুছাইবের জন্য দেশবাসী সকলে কাছে দোয়া চেয়েছেন।
উল্লেখ্য, এরপূর্বেও গৌরনদীর নির্ভরযোগ্য কোরান শিক্ষার প্রতিষ্ঠান হযরত উবাই ইবনে কাব (রাঃ) হিফজুল কুরআন মাদ্রাসার অসংখ্য ছাত্ররা দেশের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে ব্যাপক সুনাম, খ্যাতি ও পুরস্কার অর্জন করেছেন।