বরিশালের বাকেরগঞ্জে বোমা বিস্ফোরণে গুরুত্বর দগ্ধ হনুফা বেগম অবশেষে মৃত্যৃর কাছে হার মেনেছেন। নয়দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জালড়ে বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে ঢাকার বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরন করেন। এ ঘটনায় ওই পরিবারে ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসছে।
মৃত হনুফার জামাতা সুজনের বরাত দিয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার জানান, গত ৩ আগস্ট সোমবার ভোর ছয়টার দিকে উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামের শাহ আলম হাওলাদারের বাড়িতে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনায় শাহ আলমের স্ত্রী হনুফা বেগম, কন্যা ইতি ও পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া নাতি ফাহিম অগ্নিদগ্ধ হয়ে গুরুত্বর আহত হয়। ওইসময় স্থানীয়রা ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে গুরুত্বর অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পরে তাদের শারিরিক অবস্থার আরো অবনতি হলে জেলা প্রশাসন ও বিভাগীয় প্রশাসনের উদ্যোগে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার বার্ন ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। সেখানে উন্নত চিকিৎসায় হনুফা বেগমের কন্যা ইতি ও পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া নাতি ফাহিম সুস্থ্য হয়ে ওঠে। কিন্তু গুরুত্বর দগ্ধ হনুফা বেগম বুধবার বিকেল চারটার দিকে মৃত্যুবরন করেন। জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার আরো জানান, আহতদের চিকিৎসার খরচ জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসন বহন করবে। এমনকি মারা যাওয়া হনুফা বেগমকে বরিশালে ফিরিয়ে আনার সব খরচ বহন করা হবে।
বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহম্মেদ বলেন, হনুফা বেগমের মৃত্যুর খবরে আমরা সত্যিই মর্মাহত ও ব্যাথিত। আমরা সোমবার সন্ধ্যায় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে গিয়ে তাদের শারিরিক অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলাম। কিন্তু অন্যরা সুস্থ্য হলেও হনুফা বেগমের মৃত্যু আমাদের ব্যথিত করেছে। বিভাগীয় কমিশনার বলেন, আমরা আহতদের চিকিৎসা খরচের ব্যয়ভার বহন করবো।
উল্লেখ্য, গত ৩ আগস্ট ভোর ছয়টার দিকে উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামের শাহ আলম হাওলাদারের বাড়িতে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এসময় ওই এলাকার বাসিন্দা শাহ আলমের স্ত্রী হনুফা বেগম, কন্যা ইতি ও পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া নাতি ফাহিম অগ্নিদগ্ধ হয়।