চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে আলোচিত গৃহবধূ জাহেদা আক্তার মিশু (২০) হত্যা মামলায় মো. সুজন খান (৩১) নামের এক আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ১ লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আজ রবিবার (১৬ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে চাঁদপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ সামছুন্নাহার এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডিত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। দণ্ডিত সুজন খান ফরিদগঞ্জ উপজেলার চরমঘুয়া গ্রামের বাসিন্দা। মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৯ জুলাই ভোরের দিকে চরমঘুয়া গ্রামে নিহতের বাবার বাড়িতে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মিশুর মাথা ও কানে আঘাত করেন সুজন খান। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। এর আগে ২০১৭ সালে মিশুর সঙ্গে পাশের গ্রামের এক যুবকের বিয়ে হয়। বিয়ের পর পারিবারিক কলহের জেরে মিশু তাঁর বাবার বাড়িতে চলে আসেন। এই বিরোধের জের ধরেই সুজন খান এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনার নিহতের মা ছালেহা বেগম বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে ফরিদগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালত মোট ২০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনার ভিত্তিতে প্রধান আসামি সুজন খানের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। তবে অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাঁদের খালাস প্রদান করেন।