রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া মুক্তি নেই

মাদক সিন্ডিকেটের অদৃশ্য শিকল

এফএনএস
| আপডেট: ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২২ পিএম | প্রকাশ: ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২২ পিএম
মাদক সিন্ডিকেটের অদৃশ্য শিকল

বাংলাদেশে মাদক এখন শুধু সামাজিক ব্যাধি নয়, বরং রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা ও প্রজন্মের ভবিষ্যতের জন্য এক ভয়াবহ হুমকি। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা রাজধানীর অলিগলি পর্যন্ত বিস্তৃত সাপ্লাই চেইন বহু বছর ধরে অক্ষত রয়েছে। ক্ষমতার পালাবদল হলেও সিন্ডিকেটের মূল চরিত্র অপরিবর্তিত- শুধু নিয়ন্ত্রকদের হাতবদল হয়েছে। খুচরা কারবারিদের গ্রেফতার করা হলেও আসল গডফাদাররা সবসময়ই আইনের বাইরে থেকে যায়। এই অবৈধ অর্থ ব্যবহার হয় সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলা এবং রাজনৈতিক প্রভাব বলয় ধরে রাখার জন্য। মাদকের ভয়াবহতা মোকাবিলায় রাষ্ট্রকে নিরপেক্ষ ও কঠোর অবস্থান নিতে হবে। জিরো টলারেন্স নীতি প্রয়োগ ছাড়া এ চক্র ভাঙা সম্ভব নয়। শুধু বাহক বা খুচরা বিক্রেতা নয়, আড়ালে থাকা অর্থ জোগানদাতা ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অসাধু সদস্যদের ওপর কঠোর নজরদারি চালাতে হবে। সীমান্ত এলাকায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে টেকনাফ ও অন্যান্য রুটে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করতে হবে। বিমানবন্দর ও পরিবহণ খাতে উন্নত স্ক্যানার ও নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা ছাড়া বিকল্প নেই। রাজনৈতিক দলগুলোরও দায়িত্ব রয়েছে। কোনো পদধারী বা কর্মী মাদকের সঙ্গে জড়িত প্রমাণিত হলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কার এবং আইনের হাতে সোপর্দ করার অঙ্গীকার থাকতে হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠন কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজ নয়; এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং সামাজিক প্রতিরোধ। আমরা মনে করি, মাদকবিরোধী লড়াইকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত না করলে শুধু সাময়িক অভিযান চালিয়ে যুবসমাজকে রক্ষা করা সম্ভব হবে না। রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও প্রজন্মের সুস্থতা নিশ্চিত করতে হলে এখনই কঠোর, নিরপেক্ষ এবং সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে।